“অসঙ্গতি” পর্ব-৪


আপনার বিভিন্ন সবুজ প্লান্ট ভাল লাগে। তার জন্য আমার ঘরটি আমি সবুজ রঙ্গের হরেক রকমের প্লান্ট দিয়ে সাজিয়েছি। বেলকনিতে লাগিয়েছি আপনার পছন্দের পর্তুলিকা ফুল।

জানেন নুসাইবা, এই রুমটাতে আমি কাউকে আসতে দেই না। সবসময় লক করে রাখি। এমনকি নিঝুমকেও বলে দিয়েছি এই রুমে কখনও যেন ঢোকার চেষ্টা না করে! সেও আসে নি।

আপনাকে সারপ্রাইজড করার আগেই আপনি আমাকে সারপ্রাইজড করেছেন। শকড হয়ে গিয়েছিলাম। চোখের সামনে দেখতে লাগলাম, আপনাকে ঘিরে আমার স্বপ্নগুলো ধূলোয় লুটোপুটি খাচ্ছে। বিয়ের মাত্র ১৫দিন আগে আপনি সব শেষ করে দিয়ে চলে গেলেন। না ফেরার দেশ আপনি খুব ভাল আছেন, তাই না?

জানেন, মায়ার এই পৃথিবীতে আমি ভাল নেই। আপনার সাথে মাত্র একদিনের দেখা এবং ঐ দিনের কথাই আমাদের শেষ। আর কথা হলো না। আমি আপনার মাহরাম না জন্য আপনার লাশটাও দেখা হয় নি আমার। আমি দু’আ করি আপনার জন্য। আল্লাহ্ আপনাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন।”

হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পেলাম। দরজা খুলে বেরিয়ে এসে দেখি নিঝুম দাঁড়িয়ে আছে। সে এরম ভাবে আমার দিকে তাকিয়ে আছে কেন? জিজ্ঞেস করলাম,
-কী হয়েছে?
-আপনার চোখে পানি কেন?

এই রে, চোখে পানি ছিল বুঝি? কী লজ্জার কথা! দ্রুত চোখ মুছে বললাম,
-ও কিছু না! আপনি নক করেছিলেন কেন?
-কিছু কথা বলতে। ভেবেছিলাম সকাল হলে বলব। কিন্তু আপনার রুমে লাইট জ্বলতে দেখে মনে হলো আপনি ঘুমান নি। তাই ভাবলাম এখনই বলা যায়, যদি আপনি কিছু না মনে করেন আর কি!
-নাহ্! নাহ্! কোনো অসুবিধে নেই। কী বলবেন বলুন না!
-ছাদে গিয়ে বলি?
-ছাদে? এত রাতে? খুব জরুরী কিছু? ড্রয়িং রুমে বসি?
-হ্যাঁ, অনেকটাই জরুরী। ড্রয়িং রুমে বসা যায়। কিন্তু আমার ছাদে যেতে ইচ্ছে করছে। তাই ওখানে গিয়েই বলতে চাচ্ছিলাম!
-আচ্ছা, চলুন তবে!

বিয়ের পর আজই প্রথম নিঝুমের সাথে একান্তে কথা বলব। খুব একটা যে খারাপ লাগছে তা নয়। তবে আমি জানি না সে আসলে কী বলবে। তবে তার ভাব ভঙ্গিমা দেখে মনে হলো সিরিয়াস কিছু তো অবশ্যই।

এই মেয়ে সিরিয়াস হলেও খুব সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ না করলে ঠিক বোঝা যায় না। সর্বক্ষণই তার মুখ হাসিতে উজ্জ্বল। তবে সে স্বাভাবিক না থাকলে কথা বলার সময় বোঝা যায়। সে নরমালি যেভাবে কথা বলে, অস্বাভাবিক থাকলে তার কথা বলার ভঙ্গিমায় কিছুটা পরিবর্তন ঘটে। এই সময় সে থেমে থেমে কথা বলে, কথা বলার সময় চোখ নামিয়ে রাখে এরম আরও অনেক কিছু। আমি এই এক বছরে ওকে কিছুটা বুঝতে পেরেছি। যদিও আমাদের প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা কথা হতো না।

একটু আগে যখন সে বললো আমার সাথে তার কিছু কথা আছে। তখন তার কথা বলার ভঙ্গিমা অন্য রকম ছিল। ঠিক তখনই আমি বুঝতে পেরেছি সে সিরিয়াস কিছু বলতে চায়।

সিঁড়ি বেয়ে উঠতে উঠতে কথাগুলো ভাবছিলাম। নিঝুম আমার পিছনে আসছে। বিড়ালের মতো পা ফেলছে। সে যে উঠছে এটা বোঝা যাচ্ছে না। তাই একবার পিছু ফিরে দেখলাম। দেখি সে মাথা নীচু করে আসছে।

Writer: Mahazabin Sharmin Priya

Leave a Comment