সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম

সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম, পৃথিবীতে স্বর্গীয় সুখের একটি নমুনা হচ্ছে স্বামী স্ত্রীর সহবাস। সহবাস বা যৌনমিলন মানুষের জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সহবাস শুধুমাত্র উপভোগের বিষয় নয়। মহান আল্লাহ তা’য়ালা সহবাসের মাধ্যমেই পৃথিবীতে মানব প্রজন্ম চলমান রেখেছেন। সহবাস আছে বলেই পৃথিবীতে যুগ যুগ ধরে মানুষের অস্তিত্ব টিকে আছে।

সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম

সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম, পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে “স্ত্রীরা হলো স্বামীর নিকট শস্য ক্ষেতের সমতুল্য। স্বামীরা স্বাধীনভাবে তা চাষের জন্য বিচরন করতে পারবে।” এ থেকেই বোঝা যায় স্বামী তার স্ত্রীর সহিত যেমন খুশি তেমনি ভাবে যৌনমিলন বা সহবাস করতে পারবে। তাতে ইসলামে কোন বাঁধা নেই। তবে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস করার সময় প্রত্যেক মুমিনকে কিছু নিয়ম মেনে চলা অত্যাবশ্যক। সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম, তাছাড়া এটাও জানা জরুরী যে,শুধুমাত্র স্ত্রীর পায়ুপথে যৌনমিলন ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সহবাসের পর স্বামী-স্ত্রীর দুজনের বীর্য বের হওয়ার পর উভয়েই কিছুক্ষণ জড়িয়ে চেপে ধরে থাকবে এবং স্বামী তার লিঙ্গ নাড়াচাড়া করবে না। এতে উভয়েই অনেক ‍তৃপ্তি পাবে এবং গর্ভধারণের জন্য বীর্য জরায়ুর সঠিক জায়গায় পৌছাবে।

কিন্তু আমরা অনেকেই সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম বা পন্থা জানি না। আর যৌনমিলনের সময় সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম সঠিক ভাবে পালন করি না বলেই সমাজে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। ইসলামিক নিয়মে সহবাস না করার কারণে সমাজে আজ পরকীয়া,বিবাহ বিচ্ছেদ,খুন,শিশু হত্যা ইত্যাদি বেড়েই চলেছে।

সহবাসে ইসলামিক নিয়ম সমূহ নিম্নে আলোচনা করা হলো-

সহবাসের শুরুতে দোয়া পাঠ

সহবাসের সময় স্বামী-স্ত্রী উভয়কে সহবাসের দোয়া পড়ে নিতে হবে। সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম, এতে নিজেদের এবং সহবাসের মাধ্যমে যে সন্তান আসবে তাকে শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।

সহবাসের সময় যে দোয়া পড়তে হয়-

بِسْمِ اللَّهِ ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ ، وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

বাংলা উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা, ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাজাক্বতানা।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! তোমার নামে শুরু করছি। তুমি আমাদের নিকট হতে শয়তানকে দূরে রাখ। আমাদের যে সন্তান দান করবে (এ মিলনের ফলে)— তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখো।’

স্বামী উপরে ও স্ত্রী নিচে থেকে সহবাস

স্বামী উপরে ও স্ত্রী নিচে থেকে সহবাস, হাদিস সমুহে যদিও স্বামী ও স্ত্রী বিভিন্ন পজিশনে সহবাসের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। তবে সহবাসের উত্তম এবং স্বাভাবিক নিয়ম হলো, স্বামী উপরে থাকবে আর স্ত্রী নিচে থাকবে। এমনকি প্রত্যেক প্রাণীর ক্ষেত্রেও এই নিয়ম পরিলক্ষিত হয়। এই নিয়মকে উত্তম বলার কিছু সুবিধা এবং কারণ রয়েছে। স্বামী তার স্ত্রীর উপরে থেকে সহবাস করলে স্বামীর শরীর দ্বারা স্ত্রীর শরীর আবৃত হয়ে থাকে বা ঢাকা থাকে, এটা স্ত্রীর এক ধরনের সুরক্ষা। সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম, এতে উভয়ই আরামবোধ করে থাকে। স্ত্রীর কোন কষ্ট হয় না। পুরুষের শুক্রাণূ স্ত্রীর সঠিক জায়গায় পৌছে বিধায় স্বামী উপরে থেকে স্ত্রীর সহিত মিলন করা গর্ভধারনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক পন্থা।

স্ত্রী উপরে ও স্বামী নিচে থেকে সহবাস

স্ত্রী উপরে ও স্বামী নিচে থেকে সহবাস, আজকাল অনেকেই প*র্ণ দেখে অভ্যস্ত হয়ে সহবাসে অধিক আরামবোধ করার জন্য স্ত্রী উপরে ও স্বামী নিচে থেকে সহবাস করে থাকে। স্ত্রী উপরে ও স্বামী নিচে থেকে সহবাস করার সময় যদিও স্ত্রী মনে করে থাকে যে তারা অনেক আনন্দ উপভোগ করছে, আসলে তা নয়। এতে পুরুষরাই অনেক মজা পায়। সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম, এ সময় পুরুষ লিঙ্গে বীর্য আটকে থাকতে পারে এবং তা দূর্গন্ধ হয়ে পরবর্তীতে ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়ায়। আর তাই বিখ্যাত চিকিৎসা বিজ্ঞানী বু-আলী ইবনে সীনা তার অমর গ্রন্থ “কানুন” এ এই পন্থাকে নিকৃষ্ট পন্থা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

পায়ুপথে মিলন

পায়ূপথে মিলন ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। পায়ুপথে মিলন করলে মহান আল্লাহ তা’য়ালা তার বান্দা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এবং যারা পায়ুপথে যৌনমিলন করে আল্লাহ তা’য়ালা তাদের ধবংস করে দেন। এটা নিশ্চয়ই অনেক বড় পাপকাজ। সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম, পায়ুপথে যৌনমিলন করলে তাকে তওবা পরতে হবে এবং ভবিষ্যতে আর পুনরাবৃত্তি না করার জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। আল্লাহ তা’য়ালা চাইলে তাকে ক্ষম্ করে দিতে পারেন। তাছাড়া পায়ুপথে যৌনমিলন করলে পুরুষ লিঙ্গে জীবাণু সংক্রমণ হয়ে অনেক রোগ হতে পারে।

দাড়িয়ে সহবাস

দাড়িয়ে সহবাস, স্বামী স্ত্রীর যৌনমিলনে অধিকতর তৃপ্তি পাওয়ার জন্য দাড়িয়ে সহবাস করা ইসলামে কোন বিধি নিষেধ নেই। তাই আপনি আপনার কাঙ্খিত মনের বাসনা পূরণ করার জন্য দাড়িয়ে, এমনকি স্ত্রীকে কোলে করেও যৌনমিলন করতে পারেন। সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম, অনেকে বলে থাকেন দাড়িয়ে সহবাস করলে সন্তান বোবা,অন্ধ হয়ে থাকে। এসব সবই ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট কথা। এসব কথার কোন বাস্তব প্রমাণ নেই।

উলঙ্গ হয়ে সহবাস

উলঙ্গ হয়ে সহবাস, স্বামী-স্ত্রীর সহবাস করার সময় নিজেদেরকে অধিক সহবাসে উপযুক্ত এবং উত্তেজনাপূর্ণ তৈরী করার জন্য উলঙ্গ হয়ে সহবাসে করা ইসলামে কোন বাধা নেই। সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম, তবে সহবাসের সময় শয়তানের কুদৃষ্টি থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য পাতলা কাপড় দিয়ে ঢেকে সহবাস করা অতি উত্তম।

স্ত্রীর হায়েযের সময় সহবাস না করা

স্ত্রীর হায়েযের সময় সহবাস না করা, স্ত্রীর হায়েযের সময় সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। এই সময় সহবাস ইসলামের পরিপন্থি। স্ত্রীর ঋতুস্রাব বা হায়েযের সময় সহবাস করলে পুরুষ লিঙ্গে জীবাণু সংক্রমন হয়ে অনেক রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

ফজিলত পূর্ণ রাতে সহবাস

ফজিলত পূর্ণ রাতে সহবাস, ইসলামে বিভিন্ন ফজিলত পূর্ণ রাতে ( যেমন, শবে কদর রাত্রী,শবে বরাত রাত, ঈদের পূর্ব রাত) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস করা কোন বাধা নেই। সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম, তবে উক্ত রাতে নফল ইবাদত করলে,সহবাসের পর অবশ্যই ফরজ গোসল করে ইবাদত করতে হবে।

পরিশেষে

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম আমাদের জন্য একজন পুরুষ ও একজন মহিলার ইসলামিক শরীয়া মোতাবেক বিবাহ বন্ধনের মধ্য দিয়ে সহবাস কে হালাল করে দিয়েছেন। এবং স্বামী স্ত্রীর যৌনমিলন একটি অপার রহমত ও সওয়াব। সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম, সহবাসের মাধ্যমে নারী-পুরুষরা দুনিয়ার দুঃখ কষ্টকে ভুলে গিয়ে তাদের আকাঙ্খিত স্বর্গীয় সুখ খুজে পায়। তাই সহবাসের সময় স্ত্রী তার সকল রুপ যৌবন, স্পর্শকাতর অঙ্গ সমূহ তার স্বামীকে বিসর্জন দিয়ে বিভিন্ন উত্তেজনাপূর্ণ আকর্ষনের মাধ্যমে উভয়ের যৌন বাসনা পূর্ণ করার জন্য বিসমিল্লাহ বলে সহবাস শুরু করবেন। মহান আল্লহ তা’য়ালা আমাদেরকে ইসলামের শরীয়া মোতাবেক সহবাস করার তৌফিক দান করুক। আমিন।।

 

Leave a Comment