সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে

সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে, টাকা এমন একটা জিনিস যা ছাড়া জীবনে চলা অত্যন্ত দুষ্কর, অসম্ভবই বলা চলে। বেঁচে থাকার জন্য, টিকে থাকার জন্য টাকার দরকার আছে। কিন্তু টাকা পর্যাপ্ত না থাকলে বা টাকার আয়-ব্যয় সঠিকভাবে না হলে সেটা আমাদের ভেতর স্ট্রেস ও উদ্বিগ্নতার জন্ম দিতে পারে। 

কীভাবে টাকা সঞ্চয় করবেন তা বোঝা আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য খুব জরুরী। সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে, অনেকেই মাল্টি-বিলিয়নেয়ার ওয়ারেন বাফেটের মতো বিনিয়োগের কৌশল ব্যবহার করে ধনী হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা বাফেটের একটা গুরত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যান (বা জানলেও উপেক্ষা করেন)। আর তা হল, ওয়ারেন বাফেটের ধনী হওয়ার পেছনে অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে, তিনি মিতব্যয়ীতার দিক থেকে কুখ্যাতই বলা চলে।

সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে

বাফেটের মিতব্যয়ীতার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যখন তার প্রথম সন্তানের জন্ম হয়, বাফেট তার একটা ড্রেসার ড্রয়ারকে বেসিনেট বানিয়েছেন। তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্য, তিনি একটি শিশুশয্যা ধার করেছিলেন। তিনি একটি ভক্সওয়াগেন চালাতেন। এরপর তার স্ত্রী তার জন্য ক্যাডিলাক কেনেন। কারণ তার স্ত্রীর মনে হয়েছিল, এত টাকা থাকার পরেও ভক্সওয়াগেন চালানো বাফেটের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। বাফেট এখনও নেবরাসকার ওমাহাতে থাকেন। এই বাড়িটি তিনি ৫০ বছর আগে ৩১,৫০০ ডলার দিয়ে কিনেছিলেন। আশা করছি বাকিটা বুঝে গিয়েছেন

বাফেটের টাকা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনার মূলনীতিই হচ্ছে – অল্প টাকা চক্রবৃদ্ধিহারে বাড়ে। সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে, আজকে যে টাকা আপনি সঞ্চয় করলেন সেটা আগামীতে আপনি বিনিয়োগ করতে পারবেন অথবা ব্যবহার করতে পারবেন নিজ প্রয়োজনে। 

দ্য মিলিয়নেয়ার নেক্সট ডোর বইটিতে লেখক স্ট্যানলি ও ড্যাঙ্কো আমেরিকায় বসবাসকারী অনেক মিলিয়নেয়ার পরিবারের ব্যাপারে কিছু মজার জিনিস উদ্ঘাটন করেছেন। এসব কোটিপতি পরিবারের অধিকাংশই বিলাসী জীবনযাপন করে না। ব্র্যান্ডের ঘড়ি, সুট বা গাড়িতে চড়ে না। তারা এত বেশী সম্পদ জমা করতে পেরেছে কারণ তারা সাধ্যের চেয়ে নিচু মানে বসবাস করে। 

টি. হার্ভ একার বলেছেন, “আপনার কাছে কত টাকা আছে তার চেয়েও গুরত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনি টাকার ব্যবস্থাপনা কীভাবে করেন।” যে কারণগুলো ধনী ও দরিদ্র ব্যক্তির মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেয় তার মধ্যে এটিও একটি। 

সিক্স জার মেথড নামক অর্থব্যবস্থাপনার একটি পদ্ধতির স্রষ্টা অর্থবিশেষজ্ঞ টি. হার্ভ একার। আর এই পদ্ধতি ব্যবহার করে দুনিয়ার অসংখ্য মানুষ তাদের অর্থকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করছেন সফলতার সাথে।সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে,  ভুলভাল আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে দূরে থাকছেন। তাই, এবার হাতে একটা বয়াম নিন (বা ছয়টা) আর শিখে নিন কীভাবে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে নিজের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতকে আরো সুন্দর করবেন।

সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সিক্স জার মেথড 

মূল আইডিয়াটা খুব সহজ। আপনি আপনার উপার্জনকে ছয়টা ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করবেন। টাকাগুলো ছয়টা ভিন্ন অ্যাকাউন্টে রাখতে পারেন। আবার বয়াম, খাম ইত্যাদিও ব্যবহার করতে পারেন। তবে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয়ই হলো টাকাগুলোকে ক্যাটাগরিতে ফেলাঃ

প্রথম বয়াম: প্রয়োজনীয় ব্যয় (৫০%)

প্রথম বয়ামে আপনি প্রয়োজনীয় ব্যয়ের জন্য টাকা জমাবেন। দৈনন্দিন জীবনে বেঁচে থাকতে যেসব জিনিস প্রয়োজনীয় সেগুলোর খরচ থাকবে এখানে। বাড়ি ভাড়া, গ্যাস পানি ও কারেন্টের বিল, ওয়াইফাই বিল খাবার, পরিবহন ইত্যাদির মতো খরচে নিজ আয়ের ৫০ শতাংশ রাখবেন।

 এই বয়ামটিকে সর্বাধিক গুরত্ব দেবেন। মাসের ফিক্সড ব্যয়গুলো যেমন: তেল, ডাল, আটা-ময়দা, চাল, আদা-রসুন, আলু, দুধ ইত্যাদি এককালীন বাজার করে নিলে অনেকটা টাকা বাঁচাতে পারবেন। সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে , খুচরা খুচরা কেনার চেয়ে একসাথে কিনলে সঞ্চয় হবে বেশী। এতে আপনার মাস চলতে সহজ হবে। আপনি আরো সতর্কতার সাথে ব্যয় করবেন এবং সাধ্যের মধ্যে চলবেন। 

প্রতিনিয়ত জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চললেও আমাদের বেতন কিন্তু বাড়ছে না। শুধু উপার্জন বাড়ানোর ফিকির করলেন, কিন্তু নিজের ব্যয় কমালেন না। এতে উপার্জন বেড়েও তেমন লাভ হবে না। বরং নিজের অপব্যয় কমানোর দিকেও লক্ষ্য রাখুন। এভাবে নিজের প্রয়োজনীয় ব্যয়ের ওপর নজরদারি করার দ্বারা আপনি অর্থ অপব্যয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। 

দ্বিতীয় বয়াম: বিনিয়োগ (১০%)

আর্থিক স্বাবলম্বীতা অর্জনের জন্য বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে। আপনি মাসিক ইনকামের ১০ শতাংশ বিনিয়োগের পেছনে ব্যয় করবেন। এই বিনিয়োগ কেবল এমন জায়গাতেই করবেন যেখান থেকে রিটার্ন বা প্রফিট উঠে আসবে। 

আপনার ভবিষ্যতের আর্থিক স্বাবলম্বীতা অর্জনের জন্য এই বয়াম ব্যবহার করবেন। সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে, কখনই এই বয়াম থেকে পয়সা খরচ করবেন না। প্রতি মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা জমাতে পারলে বিনিয়োগের পরিমাণ ও খাত বড় হতে থাকবে। কৃষি, ফার্ম, রিকশা কিনে দেওয়া, গরু-ছাগল বর্গা দেওয়া – ইত্যাদি ক্ষেত্রে আপনি বিনিয়োগ করতে পারেন।

তৃতীয় বয়াম: দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় (১০%)

আপনার ইনকামের ১০ শতাংশ যাবে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ে। এই বয়ামের উদ্দেশ্য হচ্ছে ভবিষ্যৎ খরচের জন্য টাকা রাখা। এ ছাড়া বড় ধরণের কোনো কিছু কেনাকাটার জন্যও টাকা জমাতে পারেন এখানে। 

আপনার হুট করে কিছু কেনার তাড়না হলো আর আপনি কিনে ফেললেন এমনটা যেন না হয়। নতুন ফোন দেখলেন, ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি দেখলেন আর হুটহাট কিনে ফেললেন – এটা সম্পদের বাজে ব্যবস্থাপনা। এই বয়াম ব্যবহার করে নতুন কিছু কিনে ফেলার তাড়না উপেক্ষা করতে পারবেন। 

গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা কোনো কিছু দেখে হুটহাট না কিনে সেটা পরে কেনার জন্য ফেলে রাখে অথবা কিনলেও ভাবনাচিন্তা করে কেনে, তাদের মধ্যে স্যাটিসফ্যাকশন বেশী থাকে। সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে, প্রত্যেক মাসে সব ব্যয় করে ফেললে সমস্যা। তাহলে অন্যের কাছে হাতে পাতা লাগে। হঠাৎ অসুস্থ হলেও এখান থেকে ব্যয় করতে পারবেন।

চতুর্থ বয়াম: শিক্ষা (১০%)

সফল মানুষেরা সবসময় নিজেদের পেছনে ইনভেস্ট করে, যেন নিজেদের আরো বড় অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে, নিজের চিন্তাচেতনা উন্নত করতে পারে। তাই আপনার ইনকামের ১০ শতাংশ যাবে শিক্ষার বয়ামে। 

আপনি যত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করবেন, আপনার ইনকামের সক্ষমতাও তত বাড়বে। আপনি যত উপার্জন করবেন, আপনার জানার প্রয়োজনীয়তাও তত বাড়বে (কীভাবে আপনার সম্পদ ম্যানেজ করবেন, কীভাবে আপনার আয় আরো বাড়াবেন ইত্যাদি)। সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে, ব্যক্তিগত বা পেশাগত উন্নয়নের জন্য এই বয়াম থেকে টাকা খরচ করুন (যেমন বই, কোর্স, সেমিনার)। এ ছাড়া কুরআন পড়া শিখুন, কোনো হুজুরের কাছে যান, মাদ্রাসায় ভর্তি হোন, কোর্স করুন। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় দীনি বই পড়ুন, কুরআন তিলাওয়াত করুন। আত্মন্নোয়নে মনোযোগ দিন।

পঞ্চম বয়াম: বিনোদন (১০%)

আপনার উপার্জনের ১০ শতাংশ যাবে বিনোদনে। মাঝে মাঝে মনের একঘেয়েমি কাটাতে সাময়িক বিনোদনের প্রয়োজন হয়। বাচ্চা-কাচ্চা ও স্ত্রীকে নিয়ে সুন্দর কোথাও ঘুরতে গেলেন, পর্দার উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে রেস্টুরেন্টে খেতে গেলেন। মাসে অন্তত একদিনের জন্য হলেও এটা করুন। এতে সম্পর্ক ভালো থাকবে, বন্ধন দৃঢ় হবে।

ষষ্ঠ বয়াম: দান করা (১০%)

ছয়টি খাতের মধ্যে এই খাতটিই সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে, ইসলামের সাদাকাহ কনসেপ্টের সাথে এই খাতটি বেশ ভালোভাবে যায়। যারা আর্থিক সংকটে আছে, তাদেরকে দান করার জন্য ইসলাম বযাপকভাবে উৎসাহিত করেছে। নিজের সম্পদ পরিশুদ্ধ করা ও আল্লাহর থেকে পুরষ্কার লাভের একটি মাধ্যমও এটি। 

আপনি আপনার মোট উপার্জনের একটি নির্দিষ্ট অংশ সাদাকাহর জন্য রাখলে আপনার ওপর অর্পিত এই দায়িত্বটি সঠিকভাবে রক্ষা করতে কিছুটা হলেও সক্ষম হবেন ইনশাআল্লাহ। আর বিপদে থাকা মানুষদেরও উপকার হবে। 

কত টাকা সাদাকাহ করছেন সেটার চেয়েও গুরত্বপূর্ণ হচ্ছে আপনার সাদাকাহ করার কাজটা। আপনার ছোট্ট একটি দান হাসি ফুটাতে পারে অনেকের মুখে।

সিক্স জার মেথডের উপকারিতা

অর্থনৈতিক সাফল্যের সবচেয়ে বড় ধাপই হচ্ছে আপনি নিজের সম্পদ কত ভালোভাবে ম্যানেজ করতে পারেন সেটা।সঠিকভাবে টাকা ম্যানেজ করতে জেনে নিন “সিক্স জার মেথড” সম্পর্কে,  সিক্স জার মেথড প্রয়োগের দ্বারা সবাই শিখতে পারবে যে নিজের টাকা কীভাবে সঠিক পন্থায় ম্যানেজ করতে হয়। 

এই মেথডের সফলতার হারও অনেক বেশী। কারণ আপনি এতে নিয়মিত টাকা সঞ্চয় করতে শিখবেন, অর্থনৈতিক ডিসিপ্লিন অর্জন করবেন। বড় ধরনের সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য থাকলে সেখানেও পৌঁছাতে পারবেন ইনশাআল্লাহ। 

Leave a Comment

betvisa