শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা বিকাশে বাধা বদলি বানিজ্য আর কোচিং

শিক্ষকদেরও যে শিক্ষার প্রয়োজন আছে, সেটা কি তারা মানেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান বাড়াতে বছর বছর নতুন নতুন মেথর্ড তৈরি হচ্ছে। শিক্ষবিদদের এসব গবেষণার সুবিধা রাজধানী অথবা বিভাগীয় শহরের শিক্ষার্থীরা পেয়ে আসছে, যে কারনে তারা জেলা শহর বা গ্রামগঞ্জের শিক্ষার্থীদের চেয়ে অনেক এগিয়ে।

এদিকে জেলা ভিত্তিক সরকারি শিক্ষকরা কোন রকমে নিজ এলাকায় বা লাভজনক জায়গায় বদলি নিয়ে গোয়ালঘর খুলে বসে গেল, ব্যাস ব্যবসা শুরু। শিক্ষার মেথর্ড টেথর্ড তারা ধারধারে না। তাদের কাছে যারা পড়বে তারা পাশ করবে, যারা পড়বে না, ফলাফল অকৃতকার্য। অসহায় শিক্ষার্থীরা পরিক্ষায় পাশ করার জন্য এই স্যার, ওই স্যারের বাড়ী বাড়ী ঘুরে কোচিং করে। বইয়ের বাহিরের শিক্ষা তারা ওইসব শিক্ষকদের কাছে থেকে পায় না।

সারাদিন স্কুল কোচিং করতে করতে পুঁথিগত শিক্ষার বাহিরের নৈতিক শিক্ষা লাভের সময় বা ইচ্ছা ক্লান্ত শিক্ষার্থীদের থাকে না। তাদের নৈতিকতার উন্নতি হবে কেমন করে। শিক্ষা জীবনের শুরুতেই ছাত্রছাত্রীদের মহা প্রতারনার শিক্ষা ওই সব কু-শিক্ষকদের কাছ থেকে আসছে। ভাল ফলাফল করতে কোচিংএর দুর্বল ছাত্রদের বাসায় কোন কোন বিষয়ে একের অধিক শিক্ষকের পরামর্শও দিয়ে থাকেন অনেকে।

আমাদের স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের চেয়ে তো দেখছি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অবস্থা ভাল। জানোয়ারের মত মার খেয়ে নির্দিষ্ট পাঠ মুখস্ত করার পর ছুটি পায়। পাশ করার জন্য তাদেরকে অন্তত কোচিং কোচিং ছুটাছুটি করতে হয় না। স্কুলে কোচিং বৈধ নয় আদালতের রায়ের পরও স্কুলে স্কুলে সম্মিলিত ভাবে কোচিং চালু আছে, দেখার কেউ নেই। যারা দেখার দায়িত্বে তার যে জড়িতো নয় এমন ভাবার সুযোগ নেই। বহু দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের অনেক কষ্ট করে কোচিংএর অর্থ জোগাড় করতে হয়, না হলে সর্বনাশ। কোচিং করতে না পারা ছাত্রদের যারা অকৃতকার্য করে তাদের কি মানুষ তৈরির হাতিয়ার শিক্ষক বলা যায়?

জীবনের উপর ক্লান্ত বিষন্ন শিক্ষার্থীরা বেছে নিচ্ছে মাদকের নেশা, অতি আবেগ প্রবন হয়ে ধর্ষন, প্রেম বিচ্ছেদে আত্মহত্যা, দলাদলি, কিশোর গ্যাং, হিংসাভিত্তিক খুন আজ আমাদের সমাজের অংশ হয়ে দাড়ীয়েছে যা নৈতিক শিক্ষার প্রচন্ড অভাব প্রকাশ করে।

দেশের সরকারি শিক্ষকরা বেসরকারি শিক্ষকদের আইকন, বড়দের দেখে ছোটরা শিখে। তাই রাজধানীসহ দেশের বড় বড় শহর থেকে শিক্ষকদের দুর দুরান্তের গ্রামগঞ্জে বদলি নিশ্চিত করতে হবে, তাহলে শিক্ষার মানে রাজধানী, জেলা শহর এবং গ্রামগঞ্জ সমতায় আসবে। কোচিংএর প্রয়োজন হবে না। ছেলে মেয়েরা হাতে সময় পাবে। দেশে বদলি বানিজ্য বন্ধ না হলে কোচিং বানিজ্য বন্ধ হবে না। শিক্ষার মান এবং শিক্ষাথীদের নৈতিকতার বিকশি ঘটানো সম্ভব হবে না।

স্কুল শেষ হতে না হতে একটার পর একটা কোচিং এভাবে তাদের সারাদিন কাটে চরম ব্যস্ততায়, খেলাধুলা, হইচই, আনন্দ ফুর্তির সময় পর্যন্ত ছেলেমেয়েদের কাছে নেই। শিক্ষার্থীদের কাছে স্কুলের চেয়ে কোচিং ক্লাসের গুরুত্ব বেশি। এমন হাজার হাজার ঘটনা আছে, শিক্ষার্থীরা কোচিং ক্লাসের জন্য স্কুল কামাই করছে। তাই যদি হয়, তাহলে এত খরচ করে স্কুলগুলো চালানোর কি প্রয়োজন? শিক্ষকদের চাকরিরই বা কি প্রয়োজন?

কোচিং যখন দেশের ৪০% বেকারত্ব সমস্যা দুর করে ফেলেছে এবং সিংহভাগ সরকারি নামকরা শিক্ষকরা এই ব্যবসার সাথে জড়িত, তখন কোচিং বানিজ্যের বিকাশ বন্ধ না করে, স্কুলগুলো সব বন্ধ করা হোক। স্কুলের সময়টা শিক্ষার্থীরা হইচই করুক, গল্পের বই পড়ুক, সাইকেল চালাক, খেলাধুলা করুক, সাঁতার কাটুক, মাছ ধরুক, আড্ডা দিক, সিনেমা দেখুক। ওরাও তো মানুষ টাকা ছাপার মেশিন না। এযুগের শিক্ষকরা যদি এতটুকু শিখতে পারতো।

By নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরের অল্প সময়ে গড়ে ওঠা পপুলার অনলাইন পর্টাল রংপুর ডেইলী যেখানে আমরা আমাদের জীবনের সাথে বাস্তবঘনিষ্ট আপডেট সংবাদ সর্বদা পাবলিশ করি। সর্বদা আপডেট পেতে আমাদের পর্টালটি নিয়মিত ভিজিট করুন।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *