মুক্তিযুদ্ধে রংপুরের ইতিহাস

রংপুরের ইতিহাস নামকরণ এলাকার

রংপুরের ইতিহাস নামকরণ এলাকার নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসাকে কেন্দ্র করে রংপুরের কিছু এলাকার নাম হয়েছে।

#গুড়াতি টারী (বর্তমানে গুড়াতি পাড়া) : এই এলাকা ছিল গুড় ব্যবসার জন্য বিখ্যাত। একারণেই নাম গুড়াতি টারী (বর্তমানে গুড়াতি পাড়া)।

#কামারটারী (বর্তমানে কামার পাড়া) : লোহা লক্কড়ের কাজ (কামার) এর জন্য কামারটারী (বর্তমানে কামার পাড়া)। ২০ বছর আগেও কামার পাড়ায় এই কাজ চালু ছিল।

#খড়িয়াটারী (বর্তমান আদর্শ পাড়া) : খড়ির ব্যবসার জন্য বর্তমান আদর্শ পাড়ার নাম ছিল খড়িয়াটারী। আশির দশকের প্রথম দিকে এলাকার যুবকরা একটা ক্লাব করেন যার নাম আদর্শ যুব সংঘ। সম্ভবত আদর্শ স্কুলের থেকে এই নামটি এসেছে। পরে সেই আদর্শ যুব সংঘের উদ্যোগে এলাকার নাম পরিবর্তন করে নিউ আদর্শ পাড়া করা হয়।

#আকালিটারী (বর্তমান নাম হাবিব নগর) : মরিচ ব্যবসার কারণে এই এলাকার নাম আকালীটারী। আশির দশকের শেষ দিকে যা হাবিব নগর নাম ধারণ করে। এই পাড়ায় একটি মসজিদ আছে যার নাম হাবিবিয়া জামে মসজিদ। সম্ভবত সেই মসজিদের নামানুসারেই এলাকার নাম হয়েছে হাবিব নগর।

#চকেরটারী (বর্তমানে আশরতপুর, চকবাজার) : চক ব্যবসার জন্য বিখ্যাত ছিল এলাকাটি। সেই জন্য নাম ছিল চকেরটারী। আশির দশকেও চকেরটারীই বলা হতো। এখন নাম আশরতপুর নাম। একারণেই আশরতপুরের বাজারটার নাম চকবাজার।

#পানাতিটারী (করনজাই রোড) : ছোট্ট একটা পাড়া। গ্র্যান্ড হোটেল মোড় থেকে যে রাস্তাটা দক্ষিণ পশ্চিম দিকে গিয়ে শাপলা টু বাস টার্মিনাল রোডে উঠেছে, সেই সেই রাস্তার দুই পাশের এলাকার নাম পানাতিটারী (বর্তমানে পানাতিপাড়াও বলে)। ইতিহাস থেকে জানা যায়, সিপাহী বিদ্রোহে এদেশীয়দের পরাজয়ের পরে সেই বিদ্রোহে জড়িত দুইজন সৈনিক এই অঞ্চলে এসে ছদ্মনাম ধারণ করে বসবাস এবং পানের ব্যবসা শুরু করেন। সে জন্য পান ব্যবসার কারণে নাম পানাতিটারী। পরে কোন এক সময় জনৈক প্রভাবশালী ব্যক্তি করনজাই সাহেব (করনজাই টাইটেল) ওই এলাকায় বসবাস শুরু করলে তার নামানুসারে রাস্তাটার নাম করনজাই রোড হয়। ১৫/১৬ বছর আগেও একটা বাসার গেটে সেই করনজাই সাহেবের পুরো নাম লেখা ছিল। ভুলে গিয়েছি।

#বাদিয়াটারী (বর্তমানে শাপলা চত্বর হাজী পাড়া) : শাপলা চত্বর থেকে বাস টার্মিনাল যেতে চত্বর সংলগ্ন যে এলাকায় নাম এখন হাজী পাড়া, সেই জায়গাটার আসলে ছিল চামড়া ব্যবসায়ীদের গুদাম এবং নিবাস। বর্তমানে যে অটোর দোকানগুলো দেখা যায়, ২০ বছর আগেও সবগুলোই ছিল চামড়ার গুদাম। কোটি টাকার চামড়া ব্যবসা হতো প্রতি ঈদে। এছাড়াও সারা বছরই কাঁচা চামড়া কিনে তাতে লবণ মাখিয়ে প্রসেস করা হতো। অনেক বড় বড় চামরা ব্যবসায়ী ছিলেন ওই এলাকায়। বিগত কয়েক বছর ধরে সিণ্ডিকেটেং এর কারণে চামড়া ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। তাই চামড়া ব্যবসায়ীরা ঝুঁকেছেন ভিন্ন ব্যবসায়।

#গাড়িয়ানটারী (ডিসির বাসভবন থেকে কেরানী পাড়া গিয়ে যে চৌরাস্তাটা পরে সেখানে) : এখানে ভাড়ায় ঘোড়া ও গরুর গাড়ি পাওয়া যেতো। সেজন্যই গাড়িয়াল টারী বলা হতো। গাড়িয়ালের পরিবর্তিত রূপ গাড়িয়ান। যদিও স্থানীয় এবং আশেপাশের কিছু মানুষ ছাড়া এই নামগুলো আর প্রচলিত নয়।

লিখেছেনঃ Riyadh Anwar Shubho

রংপুর ডেইলী রংপুরের সবচেয়ে আপডেট সংবাদ দেশ ও আন্তজার্তিক নিউজ প্রকাশে বাধ্য থাকিবে। রংপুরের সব রকমের নিউজ পেতে রংপুর ডেইলী ভিজিট করুন