মিঠাপুকুরে ব্যবসা ধ্বংস করে জীবন নাশের চেষ্টা ও হুমকি

সাম্প্রতিক সময়ে মোঃ আশাদুজ্জামান খান এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে, মিথ্যা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ দিয়ে, ব্যবসা ধ্বংস করে দেওয়া, জীবন নাশের চেষ্টা ও হুমকি প্রদান, পৈত্রিক বাড়িতে গিয়ে আক্রমন ও লুটপাট,পরিবারের সদ্যসদের নিয়ে ফেসবুক ও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে মিথ্যা তথ্য প্রচার এবং ক্ষতি করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন। পুরো প্রতিবাদ সংবাদ সম্মেলনটি নিচে তুলে ধরা হইল।

আসসালামু আলাইকুম।
প্রিয়, মিঠাপুকুর এলাকাবাসী, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, সভাপতি/সম্পাদক ও অন্যান্য সকল সাংবাদিকবৃন্দ,মিঠাপুকুর প্রেসক্লাব, মিঠাপুকুর, রংপুর।

আপনাদের সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, আমার বিরুদ্ধে যারা মিথ্যা অপপ্রচারকারী, তারা সকলে মুনাফা খোর/সুদ কারবারি ও স্টাফ ছিলেন, তারা যেসব বিষয় ইদানিং মিথ্যা কথা বলে প্রচার করছেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে সকলকে বিভ্রান্ত করছেন। তারা আমাকে হেনস্তার জন্য বার বার মিথ্যা বলে সেটা সত্য বনানোর চেস্টা করেছেন। বিভিন্ন ভাবে অর্থ লগ্নি করে অযাচিত বিষয় পত্র-পত্রিকায় তুলে এনেছেন। আজ আমাকে সমাজের মুখোমুখি দাড় করিয়েছেন। আমি তাদের সেই অপকর্ম, অযাচিত মিথ্যা ও ভন্ডামি এবং সন্ত্রসী কর্মকান্ড তারা যেগুলো চালিয়ে যাচ্ছেন সেগুলোর কিছু তথ্য ও উত্তর আমি দিতে চাই।

আমি ২০১৭ সাল থেকে এজেন্ট ব্যবসা করে আসছিলাম ১টি শাখা দিয়ে। ২০২০ সালে ৮টি শাখায় বৃদ্ধি পায়। আমার প্রতিষ্ঠানে ৩০ জনের অধিক বেকার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল। ২০১৭-২০২০ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সকল কর্মচারির বেতন, ভাতা ও বোনাস পুরোটা পরিশোধ করেছি। যদিও ২০২০ সালে করোনা মহামারী শুরু হলে ব্যবসায় আমার প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। করোনা মহামারী শুরুর থেকে আমার কিছু স্টাফ ও সুদ কারবারী তাদের প্রদানকৃত অর্থ যা দীর্ঘ সময়ের জন্য দিয়েছিল। কিন্তু তারা কয়েক মাস না যেতেই আমার কাছ থেকে তাদের প্রদানকৃত অর্থ ফেরৎ দিতে বলে। যখন আমি এই অল্প সময়ে ফেরৎ না দিতে চাই তখন আমার প্রতিষ্ঠানে অংশীদারিত্ব দাবী করেন।

উল্লেখ্য আমার স্টাফ ও অন্যান্য সুদ কারবারীর নিকট থেকে প্রায় ১,৩০,০০,০০০/- (এক কোটি ত্রিশ লক্ষ টাকা) নেওয়া ছিল। তাদের হুমকি ও অব্যাহত চাপের মুখে আমি অধিক ক্ষতি স্বীকার করেও তাদের অনেকের টাকা পরিশোধ করি, যার পরিমান ৮৭,০০,০০০/- (সাতাশি লক্ষ) টাকার অধিক, যা ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছি। বাদ বাকি টাকা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে যা সময় সপেক্ষে ব্যাপার। কেননা করোনা ভাইরাসের কারনে আমার বিনিয়োগের স্থান থেকে কোন প্রকার অর্থ আমি সংগ্রহ করতে পারছি না, কয়েক জন অফিস স্টাফ ও সুদ কারবারিদের মিথ্যা ষড়যন্ত্র আমাকে পথে বসিয়েছে। এখন অফিস গুলো বিক্রি বা হস্তান্তর করে বাকি অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব, অন্যথায় নয়।

আমার পক্ষে নিজ হাতে সব অফিস পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। সেই সুযোগে আমার কিছু অভিযোগকারী স্টাফ আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি করে ফেলে।

যেমন: পল্লীবিদ্যুৎ থেকে আমাকে চিঠি দিয়ে জানোনো হয় প্রায় ৮,০১,০০০/- (আট লক্ষ এক হাজার) টাকা আমার অফিস থেকে অপরিশোধিত আছে। কিন্তু উক্ত টাকা কোন ভাবেই বাকি থাকার কথা নয়। যেহেতু আমি ব্যাংকের এজেন্ট আর আমার অফিসে এটা ঘটেছে বাধ্য হয়ে সেই টাকা আমাকে পরিশোধ করতে হয়। যা আমার কিছু বখাটে কর্মচারীরা লোপাট করেছিল। এই খবর টা যাতে বাহিরে ছাড়িয়ে না পরে তাই বিষয়টি কাউকে জানাই নাই। কিন্তু আমাকেই সেই অর্থ বিদ্যুৎ অফিসে পরিশোধ করতে হয়। এই রকম অপরাধের অনেক উদাহরণ আছে। তার মুলে রয়েছে আসাধু কিছু কর্মচারীর অসৎ উদ্দেশ্য। তারাই আজ সুদকারবারীদের সাথে মিলে ষড়যন্ত্র করে চলছে।

আমার কাছে যারা সুদে বিনিয়োগ করেছিল তারা মূলত আমার সাথে ব্যবসা করেছিল। তারা উচ্চহারে সুদ আদায় করত। তাদের চাহিদা মত সুদ প্রদান না করলে টাকা উঠানোর চাপ দিত, তাদের সাথে আমি সরল বিশ্বাসে লেনদেন করতাম কিন্তু তারা আমাকে আজ অনেক বিপদে ফেলে দিয়েছে, তাদের হেনস্তার কারনে আমি আমার ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছি না। তাদের অনেকেই আমার অফিসের অংশীদার হিসাবে ব্যবসার মালিকানা চাইত, কিন্তু অনেক কস্টে গড়া প্রতিষ্ঠান আমি চাইনি তাদের হাতে তুলে দিতে, তার পর থেকে তারা ষড়যন্ত্র করে আমার প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের মুখে দাড় করিয়েছে। তারা ব্যাক্তিগত ভাবে আমার কাছে সুদে অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। আজ তারা বলছে ব্যাংকে আমনত রেখেছিল, যদি তাই হইত তাহলে আমার কাছ থেকে দীর্ঘদিন যাবত উচ্চ হারে সুদ নিয়েছেন কেন?

আমি অত্যন্ত দুঃখ কষ্টে ভারাক্রান্ত, আমাকে সুদকারবারিরা সকল দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। আজ তারা অসৎ ও হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করবার জন্য আমার সহজ সরল মা, বাবা ও ভাই, বোনদেরকে আমার ব্যবসায় টেনে আনছে। অথচ মা, বাবা ও ভাই কোন ভাবেই ব্যবসা সমন্ধে কোন ধারণা রাখত না। আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই এই ভন্ড ও মিথ্যাবাদী প্রতারকদের, আল্লাহ তায়লা সবচেয়ে ভালো বিচারক। মিথ্যা কথা বলে সেটাকে সত্য বানানোর চেস্টা করছেন আমার বিরুদ্ধে অভিযোকারিরা। একদিন তাদের মিথ্যা, মিথ্যাই প্রমানিত হবে ইনশাল্লাহ।

ইতি পূর্বে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগকারিরা, উপজেলা নিবার্হী অফিসার মহোদয়, উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়, অফিসার ইনচার্জ ও প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ ও সংবাদ মাধ্যম গুলোতে মিথ্যা অভিযোগ করেন যে, আমি ৬ কোটি টাকা নিয়ে পলাতক রয়েছি। আবার তারাই পরবর্তীতে ০৫ মে ২০২১ তারিখে মানববন্ধন করে আনুমানিক ১ কোটি টাকার অভিযোগ উপস্থাপন করেন। অথচ তারাই আমার ৫০টির ও অধিক চেক ও ৯টি অলিখিত স্বাক্ষরিত নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্প পেশী শক্তি দ্বারা দখল করে রেখেছে। আমি থানায় জিডি করতে পাঠাই চেক ও ষ্ট্যাম্পের ব্যাপারে কিন্তু বেশি চেকের কথা বলে জিডি গ্রহণ করা হয় নাই। তারা আমাকে অফিসে বসতে না দিয়ে সেগুলো লোপাট করে নিয়ে যায়। তাদের অবিরত হুমকির মুখে আমি ৩ মাস যাবত অফিস করতে পারছিনা।

হুমকিদাতাদের অর্থবিত্ত এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারনে আমি চরম অসহয়। যেমন, রূপক মজুমদার সব সময় তার উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বরাতে প্রশাসনকে ব্যবহার করে আমাদেরকে ভিষন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে। আমি নিজের ও পরিবারের সকলের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কিত। অনেকে আমার পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে এবং আরও নেওয়ার চেস্টা করা হচ্ছে।

আমার বিভিন্ন অফিস গুলতে অর্থ লেনদেনের জন্য প্রদানকৃত যা পূর্ব থেকে স্বাক্ষরিত চেক যেগুলো আমার কিছু মিথ্যাবাদী স্টাফ ও মুনাফাখোর সুদ কারবারি মিলে তাদের দখলে রেখেছে। সেগুলা উদ্ধারে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়, অফিচার্জ ইনচার্জ মহোদয় ও সাংবাদিকবৃন্দের নিকট সর্বাত্বক সহযোগিতা কামনা করছি।

যারা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আনছেন তাদের অনেকরই সুদের সম্পূর্ণ টাকা ও আসল টাকার বেশ কিছু অংশ ইতিমধ্যে পরিশোধ করেছি। তাদের নিকট আমি পর্যাপ্ত সময় কামনা করছি। কেনানা একটা অফিস বন্ধ কিংবা বিক্রয় করিতে চাইলেও ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লাগবে। করোনা ভাইরাস যেটাকে আর ও প্রলম্বিত করেছে। আমি অকাতরে সব সময় মনুষের পাশে দাড়িয়েছি। কখনো কারো একটি পয়সা নষ্ট করি না। কিন্তু তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আমাকে প্রতারক বনানোর চেস্টা করছেন, যা অত্যন্ত অমানবিক।

অভিযোগকারিরা এই পর্যন্ত সংঘবদ্ধ ভাবে ৩ বার আমার পৈত্রিক বাড়ীতে গেছেন, আমার নিরীহ বাবা ও ছোট ভাইকে প্রথমবার শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন। সেই সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি ধামকি, পুলিশ ও প্রশাসন এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব দ্বারা হেনস্তা করার কথা বলেন। দ্বিতীয় বার আমার উদ্দেশ্য বাড়ীতে যান এবং আমাকে না পেয়ে মোঃ লালন মিয়া ঘরের দরজা খুলতে বলেন, দরজা খুলতে না চাইলে লাথি মারতে থাকেন এবং মোঃ আল-আমিন মিয়া বলতে থাকে আমাকে পাইলে কেটে টুকরা টুকরা করে মেরে ফেলা হবে ।

তৃতীয় বার অভিযোগকারী/সুদকারবারি বাড়িতে যায় এবং সঙ্গে কিছু দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যান, আমার বাবা তাদের খারাপ আচরন প্রদর্শন দেখে ভয়ে ঘরে ঢুকে পড়েন। তখন রান্নাঘরের টিনের বেড়া কেটে বের করে নিয়ে যাওয়ার চেস্টা করেন, মোঃ আসাদুজ্জামান ও মাজহারুল ইসলাম। ঐ সময়ে আমার মা রংপুরে ছিলেন ও ছোট ভাই ঢাকা থেকে ফিরে বাজার অবধি পৌছার পর সে এই ঘটনা জানতে পারে এবং দ্রুত ভাবে বাড়ীতে পৌছায়। ছোট ভাই কিছু বুঝে উঠার আগেই ভাইকে টেনে হিছরে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে মোঃ আল-আমিন মিয়া, মোঃ লালন মিয়া, মোঃ আসাদুজ্জামান ও অন্যান্য। ঐ সময় পুলিশের হেল্পলাইনে ফোন করে সহায়তা চাওয়া হয়, কিন্তু তারা অনেক দেরিতে ঘটনা স্থানে পৌছায় এবং উদ্ধার করেন। এই অভিযোগকারি চক্রটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তারা প্রচুর পরিমান অর্থ ব্যয় করছে, আমাকে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত প্রমাণ করার জন্য।

এই চক্রে জড়িত আছেন, (১) মো: লালন মিয়া, পিতা: শাহ মনোয়ার হোসেন (২) মো: মোয়াজ্জেম হোসেন, পিতা: আবু তালেব মিয়া, (৩) মোঃ আল-আমিন মিয়া, পিতা: লুৎফর রহমান, (৪) মোঃ মাজহারুল ইসলাম, পিতা: মমতাজ হোসেন (৫) রূপক মজুমদার, পিতা: শশি ভুষন মজুমদার (৬) মোছাঃ নুরানী পারভীন আনছারী, স্বামী: মুকুল মিয়া (৭) ফজলুল হক প্রধান, পিতা: মোঃ তোফাজ্জল প্রধান (৮) মোঃ আসাদুজ্জামান (লাল দিঘী) (৯) অন্যান্য সুদি কারবারি ও তাদের ভারাটে সন্ত্রসীরা।

আমি আমার ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছি না, আমার পরিবার মা-বাবা, ভাই, বোন অত্যন্ত নিরূপায় হয়ে আছে, অভিযোগকারিদের অনাবরত হুমকির কারনে। যাদের কারনে আমার ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্থ হলো, স্বাধীন অডিট কমিটির মাধ্যমে দায়-দায়িত্ব নিরূপন করে আমার ব্যবসার ক্ষতিপূরন এবং তাদেরকে চিহ্নিত করে তাদের কাছে থেকে উপযুক্ত ক্ষতি পূরন আদায়, শাস্তি প্রদানসহ সঠিক বিচারের আবেদন জানাচ্ছি। সেই সাথে আমার পরিবারের সবার সার্বিক নিরাপত্তা বিধান, হয়রানি, হেনস্তা ও পীড়ন, মিথ্যা অপবাদ শারীরিক ও মানসিক লাঞ্ছনা থেকে রক্ষা করে মুক্ত জীবন যাপনের রাষ্ট্রীয় অধিকার ও নিশ্চয়তা প্রদান করার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি সংস্থার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ।
মোঃ আশাদুজ্জামান খান
পিতা: মো: আলতাফ হোসেন খান
মিঠাপুকুর, রংপুর।
মোবা: ০১৭১০-০৫৩১১৯, ০১৮৪৭-১২১৮০০

Leave a Comment