ভোট দিবার যাইম না পুল না হইলে

চিকলী নদীর শাইলবাড়ি খেয়াঘাটের বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে গেছে পানির স্রোতে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার । প্রায় ১০ হাজার মানুষ এতে দুর্ভোগে পড়েছে ১২টি গ্রামের । তাদের উপজেলা শহরে যাতায়াত করতে হচ্ছে অতিরিক্ত চার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে । শাইলবাড়ি গ্রাম উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে । চিকলী নদী ওই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে । এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানালেও পাকা সেতু নির্মাণ করা হয়নি । তবে ওই নদীর শাইলবাড়ি খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য । তবে এলাকার মানুষ চাঁদা দিয়ে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে পারাপার হচ্ছিল। গত সোমবার একমাত্র সাঁকোটি ভেঙে ভেসে গেছে বৃষ্টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির স্রোতে । আর এতে দুর্ভোগ পড়েছে ওই গ্রামগুলোর মানুষ।

সাঁকোটি মাঝবরাবর ভেঙে নদীতে পড়ে আছে আজ শনিবার সরেজমিন দেখা যায় । তবে মানুষ অতিরিক্ত পথ ঘুরে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছে। শাইলবাড়ি গ্রামের শাহিদা বেগম (৪২) ভাঙা সাঁকোর ছবি তুলতে দেখে এগিয়ে আসেন । আক্ষেপ করে তিনি আর বলেন, ‘ফটো তোলোছেন এটে কি পুল হইবে ? তবে পুল না হইলে ভোট দিবার যাইম না, ভোটের স্লিপ ছিঁড়ি ফেলাইম।’ শাহিদার সঙ্গে সুর মিলিয়ে দর্জিপাড়া গ্রামের আর্জিনা বেগম (৩২) বলেন, ‘মোর কোনো জমিজাগা নাই। স্বামীর কোমরোত ব্যথার তকনে কাম কইরার পায় না । মোর কষ্ট দেখি ইউএনও স্যার শাইলবাড়ি ঘাটের পাশোত উচ্চগ্রামোত (আশ্রয়ণ প্রকল্পে) পাকা ঘর দিছে ে। মাইনসের বাড়িত কামকাজ করি আসি শান্তিতে ঘুমাও। কিন্তু বাঁশের সাঁকো কোনা ভাঙি যাওয়ায় মোর তো যাওয়া–আইসার খুব সমস্যা হইছে।’

‘অনেক কষ্ট করি চাঁদা তুলি এটে সোবায় মিলি সাঁকো কোনা বানাছনো ভীমপুর গ্রামের দিনমজুর শহিদুল ইসলাম (৪০) বলেন । তবে তাক এবার পানির স্রোতোত ভাঙি গেল । এতে হামার যাতায়াতোত খুব কষ্ট হওছে । এটে একনা পুল বানে চাই সরকারেরটে হামার একটাই দাবি।’ ‘যুদ্ধের পর থাকি যতবারে ভোট হইছে, ততবারে নেতারা কথা দিছে এটে সেতু বানে দেবে মহেশখোলা গ্রামের ৬৫ বছরের বৃদ্ধ আবদুস সাত্তার বলেন। কিন্তু ভোট শ্যাষ হইলে আর কাকো পাওয়া যায় না । তবে সেতুর আশায় জীবনই শ্যাষ হইল । তা–ও এটে সেতু হইল না । আর এটে এখান সেতু বানাইতে কি সমস্যা?

শাইলবাড়ি ঘাটে পাকা সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে দাবি জানানো হয়েছে আলমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন বলেন । তবে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ায় দর্জিপাড়া, খ্যানপাড়, ডাঙ্গাপাড়া, মহেশখোলা, শাইলবাড়ি, নলুয়ারডাঙ্গা, প্রামাণিকপাড়া, কোরানীপাড়া, ভীমপুর, মৌলভীপাড়া, বানিয়াপাড়াসহ ১২টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। আর ইউপির বরাদ্দ না থাকায় বাঁশের সাঁকোটি সংস্কার করতে পারছি না ।’

তবে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মেদ হায়দার জামান বলেন, ‘ভাই, আমাদেরও খারাপ লাগে। কিন্তু বরাদ্দ না পেলে সেতু বানাব কী দিয়ে । তবে এক বছর আগে বরাদ্দ চেয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে । এখনো বরাদ্দ মেলেনি। তবে বরাদ্দ পেলেই ওই স্থানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।’

Leave a Comment