বাজিতপুরে বিজয় শোভাযাত্রায় আ.লীগ-বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ১২

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে বিজয় দিবসের শোভাযাত্রায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে পৌর শহরের টিঅ্যান্ডটি কার্যালয়ের সামনের সড়কে দুটি দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পৌনে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


আহত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপির আটজন আর আওয়ামী লীগের চারজন আছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন মিয়া, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহেল, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পারভেজ আহমেদ, জেলা যুবদলের সদস্য সাদ্দাম হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য হৃদয় আহমেদ স্থানীয় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন।এ ঘটনায় আজ বিকেল চারটায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ মজিবুর রহমানের বাজিতপুরের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

উভয় দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাজিতপুর ও নিকলী নিয়ে কিশোরগঞ্জ-৫ সংসদীয় আসন। এই আসনের সাংসদ বাজিতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসেন। তিনি টানা তিনবারের সাংসদ। এর আগে আসনটি ছিল বিএনপির। দীর্ঘদিন ধরে বাজিতপুরে মাঠপর্যায়ে বিএনপির তেমন কোনো শোডাউন নেই। দলীয় কর্মীদের দাবি ছিল, এবার বিজয় দিবসকে ঘিরে শক্তভাবে বিএনপির অস্তিত্ব জানান দেওয়া। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজয় দিবসে বড় শোডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। আজ সকাল পৌনে ১০টার দিকে শহরের রেজু মার্কেট থেকে বিএনপি শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি সিনেমা রোড ও বাঁশমহল হয়ে টিঅ্যান্ডটি সড়ক অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসে আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রার নেতৃত্বে ছিলেন পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আশরাফ। একপর্যায়ে দুই পক্ষ পরস্পরের দিকে ঢিল ছুড়তে থাকে। পরে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। টিঅ্যান্ডটি কার্যালয় এলাকায় অন্তত ২০ মিনিট এই অবস্থা চলে। পুলিশ গিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিলে পরে সেটি বাঁশমহল ও চালমহল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। চালমহল এলাকায় পৌর বিএনপির কার্যালয়। ওই কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।


উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ বিজয়ের দিন। কিন্তু বাজিতপুরে বিএনপি বিজয়কে উদ্‌যাপন করেনি। তারা কেবল দিবসটিকে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করার জন্য শোভাযাত্রা বের করে। তাদের মিছিল থেকে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদ করেছে আমাদের কর্মীরা। তখন সামান্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের শোভাযাত্রায় অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ ছিল। অনেক মানুষ হবে, এই তথ্য আগ থেকেই আওয়ামী লীগের জানা ছিল। সে কারণে আগে থেকেই আমাদের শোভাযাত্রায় ঝামেলা করার নীলনকশা ছিল দলটির।’ কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম ঘটনাটিকে দুটি দলের মধ্যে সামান্য ভুল–বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, বিজয় শোভাযাত্রায় দুটি দলের কর্মী–সমর্থকদের মধ্যে সামান্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

Leave a Comment