বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগতে পারে

আমেরিকা যাওয়ার ইচ্ছা? বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা ভিসা পেতে হলে কি করতে হবে, কত টাকা খরচ, কোথায় আবেদন করবেন, কি কি লাগবে সব বিষয়ে জানুন এই আর্টিকেল থেকে।আমেরিকা এমন একটি দেশ যেখানে যাওয়ার স্বপ্ন হাজার হাজার বাঙালীর মনে প্রতিনিয়ত লালিত হয়। আমেরিকা ভ্রমন এর জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি আলাদা ধরন এর ভিসা। প্রতি বছর অনেক বাঙালী নাগরিক রা বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে আমেরিকা সফর করে থাকেন।

 

 

আপনি যখনই আমেরিকা যাওয়ার প্লানিং করবেন ঠিক তখনই সবার আগে ভিসা তৈরী করে নিতে হবে এবং ভিসা সংক্রান্ত সকল তথ্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া খুবই জরুরি। আজকের এই আর্টিকেল এ আমরা আপনাদের জানাবো আমেরিকা ভিসার ধরন, খরচ, মেয়াদ, আবেদন এর নিয়ম সমূহ এবং অন্যান্য সকল প্রয়োজনীয় তথ্য।

 

আমেরিকা ভিসার ধরন, সময়, মেয়াদ

আমেরিকা ওয়ার্ক ভিসাঃ
আমেরিকা ওয়ার্ক ভিসা প্রসেসিং হতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৩ থেকে ৫ সপ্তাহ পরিমাণ কার্য দিবস সময় পর্যন্ত। এই ভিসার মেয়াদ কাল হলো প্রায় ৬ বছর পর্যন্ত। পরবর্তী তে আপনি চাইলে আবার রিনিউ করতে পারবেন।

 

আমেরিকা স্টুডেন্ট ভিসাঃ
এই ভিসা প্রসেস হতে সময় লাগে মাত্র ৫ থেকে ১০ কার্য দিবস পর্যন্ত। এই ভিসার মেয়াদ কাল থাকবে যত দিন উচ্চশিক্ষা শেষ না হবে সেই পর্যন্ত।

 

আমেরিকা বিজনেস ভিসাঃ
আমেরিকা বিজনেস ভিসা প্রসেসিং হতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৩ থেকে ৫ সপ্তাহ পরিমাণ কার্য দিবস সময় পর্যন্ত। এই ভিসার মেয়াদ কাল হলো সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত।

 

আমেরিকা টুরিস্ট ভিসাঃ
আমেরিকা টুরিস্ট ভিসা প্রসেসিং হতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৩ থেকে ৫ সপ্তাহ পরিমাণ কার্য দিবস সময় পর্যন্ত। এই ভিসার মেয়াদ কাল হলো সর্বোচ্চ ১ বছর পর্যন্ত।

 

 

আমেরিকা ফ্যামিলি ভিসাঃ
আমেরিকা ফ্যামিলি ভিসা প্রসেসিং হতে সময় লাগে ১৪ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত। এই ভিসার মেয়াদ কাল থাকবে ১ বছর থেকে শুরু করে ১০ বছর পর্যন্ত।

 

আমেরিকার ভিসা করতে কি কি ডকুমেন্টস প্রয়োজন :

১.আমেরিকা ওয়ার্ক ভিসাঃ

লিগেল ডিজিটাল পাসপোর্ট। পাসপোর্ট সাইজ এর সদ্য তোলা রঙিন ছবি। দেশী নাগরিকত্ব সনদপত্র। কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন এর ডোসের ফর্ম। যে স্পনসর করছে তার আকামার কপি। জন্ম নিবন্ধন পত্র।পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। মেডিকেল ফিটনেস এর ত্যায়িত কাগজ পত্র। লিগেল আইডেন্টিটি ডকুমেন্টস। ব্যাংক এর পেপার সমুহ।

 

২. আমেরিকা স্টুডেন্ট ভিসাঃ
লিগেল ডিজিটাল পাসপোর্ট। আমেরিকার ভিসা আবেদন অফিস এর প্র‍য়োজন অনুযায়ী পাসপোর্ট সাইজ এর ক্লিয়ার রঙিন ছবি আপনার পছন্দ অনুযায়ী আমেরিকা তে অবস্থান করা যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এর অফার লেটার। স্কুল এবং কলেজ এর সকল প্রকার মেইন সার্টিফিকেট সমূহ এবং তার সাথে আরও দরকার হবে সেই সকল পরীক্ষা সমূহের মার্কশিট গুুলো। IELTS স্কোর এর সার্টিফিকেট।আমেরিকা তে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয় এর এপ্লিকেশন ফর্ম। ব্যাংক সলভেন্সি এর পেপারস সমূহ। স্টুডেন্ট ভিসার এপ্লিকেশন ফর্ম।শিক্ষার্থী রা অবশ্যই তাদের সকল প্রকার প্রয়োজনীয় কাগজ সমূহ গুলো ভেরিফিকাশন করে নিতে হবে। স্টুডেন্ট এর লিগেল আইডেন্টিটি ডকুমেন্টস। রিকমেন্ডেশন লেটার অথবা মোটিভেশনাল লেটার। স্টুডেন্ট এর সিভি।কোভিড- ১৯ এর ভ্যাকসিন এর ডোস এর ফর্ম। আগের স্কুল কলেজ এর সকল সার্টিফিকেট এর মেইন কপি এবং ফটোকপি তার সাথে অবশ্যই থাকতে হবে শিক্ষাবোর্ড এবং অ্যাম্বাসি কর্তৃক সত্যায়িত কপি। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। ইন্সুইরেন্স এর কপি।

 

 

 

৩.আমেরিকা বিজনেস ভিসাঃ
লিগেল ডিজিটাল পাসপোর্ট। পাসপোর্ট সাইজ এর রিসেন্ট তোলা রঙিন ছবি। বাংলাদেশ এর নাগরিকত্ব সনদপত্র।কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন এর ডোসের ফর্ম। স্পনসর এর আকামার কপি।জন্ম নিবন্ধন পত্র।পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।বিজনেস সংক্রান্ত সকল কাগজ পত্র।লিগেল আইডেন্টিটি ডকুমেন্টস। ব্যাংক এর পেপারস।ইন্সুইরেন্স এর কাগজ পত্র।

 

৪. আমেরিকা টুরিস্ট ভিসাঃ
লিগেল ডিজিটাল পাসপোর্ট। পাসপোর্ট সাইজ এর রিসেন্ট তোলা রঙিন ছবি।বাংলাদেশ এর নাগরিকত্ব সনদপত্র। কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন এর ডোসের ফর্ম। স্পনসর এর আকামার কপি।জন্ম নিবন্ধন পত্র।পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। ইন্সুইরেন্স সংক্রান্ত সকল কাগজ পত্র। লিগেল আইডেন্টিটি ডকুমেন্টস। ব্যাংক এর পেপারস।

 

 

৫.আমেরিকা ফ্যামিলি ভিসাঃ
লিগেল ডিজিটাল পাসপোর্ট এবং তার কপি।ভিসা অফিল এর রিকুয়েরমেন্ট অনুযায়ী পাসপোর্ট সাইজ এর সদ্য তোলা রঙিন ছবি। ইন্সুইরেন্স এর কপি। বাংলাদেশী নাগরিকত্ব সনদপত্র। পরিবার এর যেই সদস্য স্পনসর করছে তার আকামার কপি।জন্ম নিবন্ধন পত্র।কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন ডোস এর আসল ফর্ম। বিয়ের ছবি।বিয়েতে উপস্তিত সাক্ষি দের প্রমান স্বরূপ সিগনেচার। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।লিগেল আইডেন্টিটি ডকুমেন্টস।বিয়ের আসল কাবিন নামার কপি।

 

আমেরিকার ভিসা করতে কত টাকা লাগে
ক. আমেরিকা ওয়ার্ক ভিসাঃ আমেরিকা ওয়ার্ক ভিসা প্রসেস করতে খরচ হতে পারে প্রায় ১৬০ ডলার এর মতো এমাউন্ট। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোম্পানী এবং কাজ এর ধরন অনুযায়ী ভিসার খরচ কম বা বেশি হতে পারার সম্ভাবনা থাকে।

 

খ. আমেরিকা স্টুডেন্ট ভিসাঃ উচ্চ শিক্ষার জন্য আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিয়ত স্কলারশিপ অফার দিচ্ছে। স্কলারশিপ প্রক্রিয়া এর মাধ্যমে স্টুডেন্ট রা সম্পুর্ন ভাবে বিনা খরচ এর মাধ্যমে ই আমেরিকা তে অবস্থান করতে পারে। তবে ভিসা ফি বাবদ ৩৫০ $ লাগতে পারে।

 

 

গ. আমেরিকা বিজনেস ভিসাঃ আমেরিকা বিজনেস ভিসা বাবদ (B1/ B2) খরচ হতে পারে প্রায় $ ১৬০ এমাউন্ট এর মতো। এই পরিমাণ টি জাতীয়তা এর উপর নির্ভর করে থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষাৎ কার এর সময় বা আবেদন প্রক্রিয়া চলা কালীন সময় গুলো তে অর্থ প্রদান করা যেতে পারে।

 

ঘ. আমেরিকা টুরিস্ট ভিসাঃ আমেরিকা ট্যুরিস্ট ভিসা বাবদ (B1/ B2) খরচ হতে পারে প্রায় $ ১৬০ এমাউন্ট এর মতো। এই পরিমাণ টি জাতীয়তা এর উপর নির্ভর করে থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে সাক্ষাৎ কার এর সময় বা আবেদন প্রক্রিয়া চলা কালীন সময় অর্থ প্রদান করা যেতে পারে।

 

ঙ. আমেরিকা ফ্যামিলি ভিসাঃ অবিলম্বে আপেক্ষিক এবং পারিবারিক পছন্দের ভিসা আবেদন গুলির ক্ষেত্রে ৩২৫$. এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক যে সকল ভিসা গুলো আছে তার আবেদন এর ক্ষেত্রে ৩৪৫ $ এমাউন্ট খরচ হতে পারে।

আমেরিকার ভিসা কিভাবে করতে হয় বা নিয়ম :
আমেরিকা তে যাওয়ার জন্য রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিসা। তবে সেক্ষেত্রে ও ভিসা তৈরী করার যে নিয়ম গুলো রয়েছে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একই হয়। তবে এর মধ্যে কিছু কিছু ভিন্ন ব্যাপারও থাকে। যেহেতু বেশ কিছু ভিন্ন ধরনের ভিসা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি তাও নিয়ম গুলো ও কিছুটা ভিন্ন হওয়া স্বাভাবিক। এখনকার আধুনিক প্রযুক্তির দেশ, বাংলাদেশ এ আপনি চাইলে অনালাইনে খুব সহজেই আপনার আমেরিকা ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এখন আপনাদের জানাবো কিভাবে খুব সহজে অনলাইনে ধাপে ধাপে আমেরিকা যাওয়ার জন্য আমেরিকার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক..

 

১ম ধাপঃ যেই ভিসার মাধ্যমে আমেরিকা ভ্রমণ করতে চাচ্ছেন সেটি বাছাই করে নিন

ভিসার আবেদন পত্রের সাথে যে সকল প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবেন সেগুলো সঠিকভাবে বাছাই করে এটাচ করে দিন। তার পাশাপাশি অ্যাপ্লিকেশন টি কত সময় এর মধ্যে প্রসেসিং সম্পন্ন করবে তা জেনে নিবেন এবং ভিসার ফি বাবদ আপনাকে কত টাকা জমা দিতে হবে সে সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত হবেন।যে কোনো ভিসার জন্যই আবেদন করেন না কেনো অবশ্যই আপনাকে ভিসা বিভাগের সকল প্রযোজ্য নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

 

আপনার নাগরিকত্ব, পরিদর্শন অভিবাসন, শিক্ষা অনুমতি, কাজের অনুমতি ইত্যাদির জন্য স্বাক্ষরকৃত ভাবে জমা দেওয়া সম্মতি ফর্ম টি আপনার আবেদন সহ দিতে হবে। তার সাথে ভিন্ন দেশে ভ্রমণ এর জন্য আপনি করোনার ভেক্সিন নিয়েছেন কিনা, সেই সংক্রান্ত পত্রটি ও জমা দিবেন।

 

২য় ধাপঃ আমেরিকার ভিসার জন্য আপনার প্রযোজ্য আবেদনটি শুরু করতে পারেন

যেহেতু আপনি অনলাইন এর মাধ্যমে আমেরিকার ভিসার আবেদন করছেন। তাই, সবার প্রথমে আপনাকে ভিসা আবেদন ফর্ম টি সঠিক ভাবে ডাউনলোড করে নিতে হবে। ডাউনলোড করা ফর্ম টি সকল সঠিক ইনফরমেশন দিয়ে পূরন করে নিবেন।তার পর এর একটি মেইন কপি আপনি মুদ্রণ করে নিবেন এবং সেই আবেদন ফরম এর মুদ্রণ কপিটি আপনাকে ভিসা আবেদন কেন্দ্র সাথে করে নিয়ে যেতে হবে। এখন আপনার জন্য প্রযোজ্য বৈদ্যুতিন আবেদন পত্র টি সঠিক ভাবে পূরণ করে নিতে হবে। সম্পুর্ন ফর্ম এবং তার সাথে বারকোড এর সাথে ভালো ভাবে সংযুক্ত করা শিট, তার সাথে একটি উন্নত মান এর পরিষ্কার এবং চকচকে কাগজ এর সাহায্য নিয়ে কপি করে বের করে নিবেন।অবশ্যই একটি ব্যাপার খেয়াল রাখবেন যেটা হলো অবশ্যই আপনাকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে যেনো, ২ ডি এর বারকোডটি যেনো একটি স্বচ্ছ, সাদা এবং উন্নত মানের কাগজ এর মাধ্যমে কপি হয়ে বের হতে থাকে। তার কারন হলো হাতে লিখিত হোক অথবা অনুন্নত কোনো ফর্ম আমেরিকার ভিসা অফিস থেকে কখনই গ্রহণ করা হবে না।

 

তাছাড়াও আপনাকে আরও একটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে যেনো ভিসা সম্পর্কিত সকল প্রকার গোপনীয়তা মূলক নীতি এবং এর সাথে সম্মতি মূলক ফর্ম টিও পূরণ করে আমেরিকার ভিসা আবেদন ফর্ম টির সাথে যুক্ত করতে হবে।আপনি যদি আপনার ভিসা আবেদন ফর্ম টি সঠিক ভাবে এটাচ করতে না করতে পারেন তাহলে কিন্তু আপনার আবেদন টি গ্রহন করা হবে না। আমেরিকার ভিসা অফিস থেকে সেটা আপনাকে পুনরায় ফেরত দিয়ে দিতে পারে।

 

৩য় ধাপঃ আপনার আমেরিকা ভিসা অফিস এর সাক্ষাৎকার টি সঠিক ভাবে লিপিবদ্ধ করে নিন :
যখনই আপনার আমেরিকার ভিসা আবেদন এর কাজ টি সম্পন্ন হয়ে যাবে তখনই আপনি আপনার সাক্ষাৎকার টি সঠিক সময় লিপিবদ্ধ করে নিবেন। এটি আপনার একান্তই ব্যক্তিগত দায়িত্ব। এছাড়াও আপনি যখন সাক্ষাৎকার টি কনফার্ম করবেন তখন কিন্তু আপনাকে আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য গুলো সঠিক রূপে দিতে হবে।

 

সঠিক ভাবে আপনার আঙ্গুলের ছাপ এবং রঙিন ছবি দিয়ে দিবেন। আপনি চাইলে আপনার রঙিন ছবি গুলো যেকোনো ধরনের একটি ভিসা এপ্লিকেশন সেন্টার তুলতে পারেন এতে করে পারফেক্ট ছবি আসবে। এই সকল প্রসেস গুলো সম্পন্ন করলেই আপনার ভিসার অ্যাপোয়েন্টমেন্ট অর্থাৎ সাক্ষাৎকার টি বুক হয়ে যাবে। বুক হবার সাথে সাথেই আপনি কনফারমেশন ই-মেইল পাবেন। তবে একটি বিষয় খেয়াল রাখবেন যদি আপনার পরিবারের একাধিক সদস্য কিংবা একাধিক মানুষ এর আবেদন একসাথে করেন তাহলে প্রত্যেকের জন্য আলাদা আলাদা সাক্ষাৎকার এর প্রয়োজন হবে।

 

৪র্থ ধাপঃ আপনার আমেরিকা ভিসার জন্য প্রযোজ্য পেমেন্ট অথবা ফি ভিসা অফিসে প্রদান করুন :

আমেরিকার ভিসা বাবদ যে পরিমাণ ফি আপনাকে জমা দান করতে হবে তা অবশ্যই সঠিক ভাবে জমা দিবেন। ফি আপনাকে ভিসা আবেদন শেষ হবার পর পরই জমা দিতে পারবেন। ফি প্রদান করার পর আপনার মানি রিসিট নিয়ে নিতে কখনও ভুলবেন না।

 

৫ম ধাপঃ আপনার জন্য নির্ধারিত আমেরিকা ভিসা অফিস এর অ্যাপয়েন্টমেন্ট টি তে যোগদান করুন :
আপনার আমেরিকার জন্য করা আবেদন টি যখন অনলাইন এ সম্পন্ন হয়ে যাবে, ঠিক তখনই সেই কপি নিয়ে ভিসা অফিসে সরাসরি জমা দিয়ে দিতে পারবেন। আর যদি আপনি অনলাইন আবেদন প্রেফার না করে থাকেন তাহলে আপনার সকল প্র‍য়োজনীয় তথ্য সমূহ জমা দিয়ে সরাসরি আবেদন সম্পন্ন করে নিতে পারেন।যদি আপনার তথ্য সমূহ বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতিতে দেওয়া হয় কিংবা অন্য যে কোনো সাধারণ পদ্ধতিতে দেওয়া হয়। তাহলে আপনাকে আবেদন এর একটি রসিদ দেওয়া হবে, সেটা অবশ্যই সংগ্রহ করে নিতে ভুল করবেন না। কারন সেই রসিদ এর মাধ্যমে আপনাকে একটি আমেরিকা ভিসার ট্র্যাকিং নম্বর জানিয়ে দেওয়া হবে। যার ফলে আপনি বুঝবেন যে, আপনার ভিসা টি কতো দ্রুত আগাচ্ছে।

 

৬ষ্ঠ ধাপঃ আপনার আমেরিকার ভিসা অ্যাপ্লিকেশন টি ট্র্যাক করুন

আপনার ভিসা আবেদন টি সম্পন্ন হয়ে গেলে সাথে সাথেই আপনি একটি ইমেইল পাবেন এবং সেই ই-মেইলেই আপনি একটি ট্রাকিং লিংক পাবেন। যেই ট্র্যাকিং লিঙ্ক থেকে আপনি জানতে পারবেন আপনার আমেরিকা ভিসার কাজ কতটুকু আগাচ্ছে। কিংবা কোনো কারনে স্থগিত আছে কিনা অথবা কোন ধরনের সমস্যা হচ্ছে কিনা।এছাড়াও আপনি যদি মনে করেন ইমেইল এর মাধ্যমে আপনি ট্রেকিং করতে চাচ্ছেন না তাহলে আপনি যে কোনো একটি সচল মোবাইল নাম্বার প্রদান করতে পারেন। যে এই মোবাইল নাম্বার এর মাধ্যমে আপনাকে সেই ট্রাকিং লিংকটি পাঠানো হবে।

 

 

তার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই ভিসা আবেদন এর সকল কিছু ট্র্যাক করতে পারবেন। এছাড়াও চাইলে সরাসরি লিংক নিয়ে ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে আপনার ভিসা আবেদন এর কাজটি কতটুকু সম্পন্ন হলো তা চেক করতে পারবেন এবং পরবর্তীতে সেই অনুযায়ী স্টেপ নিতে পারবেন।

 

৭ম ধাপঃ সৌদি আরবের পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিন

সবশেষ স্টেপে আপনি ভিসা আবেদন অফিস থেকে আপনার আমেরিকার পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নিবেন। পাসপোর্ট এর সাথে আপনাকে দেওয়া হবে সেগুলো সঠিকভাবে চেক করে সংগ্রহ করে নিবেন। আপনি যদি মনে করেন সরাসরি ভিসা আবেদন অফিস এ যেতে চাচ্ছেন না,তাহলে পাসপোর্ট এবং অন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমূহ অতিরিক্ত চার্জ এর মাধ্যমে কুরিয়ার করে নিয়ে নিতে পারেন।সবশেষে আপনার ভিসা থেকে প্রস্তাবিত আমেরিকা তে প্রবেশ করার জন্য সঠিক তারিখ, সঠিক প্রবেশ পথ এর বিশেষ সংখ্যা সমূহ, অন্য যেসকল প্রয়োজনীয় তথ্য আমেরিকা তে বৈধ ভাবে প্রবেশ এর জন্য দরকার হবে সেসকল কিছু বিবেচনা করে নিন। ভালো মতো পরীক্ষা করে নিবেন কারন তা আপনার একান্ত দায়িত্ব।

 

আমেরিকা ভিসার আবেদন কেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য :
আর্টিকেল এর এই পর্যায়ে আমরা বাংলাদেশ এ অবস্থিত আমেরিকা -র ভিসা আবেদন কেন্দ্রে যোগাযোগ এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সমূহ জানাবোঃ

১. বাংলাদেশ ঠিকানা: মাদানী এভিনিউ, বারিধারা, ঢাকা- ১২১২, বাংলাদেশ।

ফোন নম্বর: (880) (2) 55 66- 20 00.

ওয়েবসাইট এড্রেস: https://bd.usembassy.gov

 

২. বাংলাদেশ ঠিকানা: ৪ গুলশান, বাড্ডা সংযোগ সড়ক, ঢাকা- ১২১২।

মোবাইল নাম্বার: +88 018 11- 477 088.

টেলিফোন নাম্বার: 096 102 020 40.

ই – মেইল এড্রেস: support-bangladesh@ustraveldocs.com

আমেরিকা ভিসা সম্পর্কে সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. আমেরিকা ভিসা অনুমোদিত হতে কতক্ষণ সময় লাগে?

একটি আমেরিকা ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া করণ এর জন্য তিন থেকে পাচ সপ্তাহ সময় লাগে৷ প্রক্রিয়া করণের পরে, আবেদনকারী তাদের আবেদন এর ইতিবাচক উত্তর পেতে পারেন এবং কনস্যুলেট নথিটি সরবরাহ করবে। ভিসা ডেলিভারি হতে আরও দুই কর্মদিবস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

 

 

২. আমেরিকা ভিসার জন্য কি ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রয়োজন?

আপনাকে সাধারণত আগের তিন মাস এর ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট প্রদান করতে বলা হবে, প্রমাণ হিসাবে যে আপনি আমেরিকা থাকার সময় কালে আর্থিক ভাবে নিজেকে সমর্থন করতে পারবেন।

 

৩. আমেরিকা ভিসা ইন্টারভিউ কতক্ষণ লাগে?

আমেরিকা ভিসা ইন্টারভিউ টি সাধারণত ২০ মিনিট এর মতো সময় চলে থাকে।

৪. আমেরিকার জন্য সেরা ভিসা কি?

যারা আমেরিকা যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য B-2 ভিসা হল সেরা বিকল্প। যারা দেশে চিকিৎসা নিতে ইচ্ছুক তাদের জন্যও এই ভিসা প্রযোজ্য হবে। আইটি কর্মী এবং অন্যান্য বেশিরভাগ পেশাদার দের জন্য, H-1B পছন্দের ভিসা হয়েছে।

 

৫. আমেরিকা ভিসা কত প্রকার?

আমেরিকা ভিসার মধ্যে দুটি সাধারণ ধরনের আছে: অ-অভিবাসী ভিসা এবং অভিবাসী ভিসা।

Leave a Comment