পর্যাপ্ত ঘুম কেনো প্রয়োজন?

১.স্মৃতিহীনতা:ঘুম কম হলে মস্তিষ্কে ‘বিটা অ্যামিলয়েড’ নামের ক্ষতিকর প্রোটিন তৈরি হয়।অ্যালঝাইমার(যেই রোগে সৃতিশক্তি লোপ পায়)রোগের সঙ্গে এই প্রোটিনটির সম্পর্ক রয়েছে। আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের শরীর মস্তিষ্ক থেকে বিটা অ্যামিলয়েড ও এরকম অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ করে থাকে।

২.ওজন বাড়ে:ঘেরলিন নামক হরমোন মস্তিস্কে ক্ষুধা লাগার বার্তা পাঠায়। তখন মস্তিস্ক আমাদেরকে খাবার খেতে বলে।আর আমাদের ক্ষুধাভাব কমিয়ে আনে লেপ্টিন নামক হরমোন। ঘুম কম হলে ঘেরলিন হরমোন বেড়ে যায় কিন্তু লেপটিন হরমোন বাড়তে থাকে তখন আমাদের দেহে এবং লেপ্টিনের পরিমাণ কমতে থাকে।অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগার ফলে অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ থেকে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ ওজন বেড়ে যায়।

৩.ডিপ্রেসন বাড়ে:গবেষণা করে দেখা গিয়েছে বিশ্বের অধিকাংশ ডিপ্রেসন এর রোগীর ই পর্যাপ্ত ঘুম হয় না।

৪.হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ে:উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগের একটি মূল কারণ। রাতে যথেষ্ট ঘুম না হলে রক্তচাপ বেড়ে যায় ফলে দেহ স্ট্রেস হরমোন করটিসোল-এর নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয় যা হার্টের উপর প্রেসার ফেলে।পর্যাপ্ত ঘুম না হলে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক এর সম্ভাবনা বাড়ে।

৫.মেজাজ খিটখিটে থাকে:দিনে অন্তত ৫ ঘণ্টার কম ঘুম হলে তা মনের উপর প্রভাব ফেলে।যাদের পর্যাপ্ত ঘুম হয় তাদের মেজাজ সারাদিন খিটখিটে থাকে,সামান্য কারণেই রাগারাগি করে অন্যদের সাথে।

৬. প্রজননতন্ত্রের ওপর প্রভাব:যেসব পুরুষ রাতে মাত্র পাঁচ বা ছয় ঘণ্টা ঘুমান, তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যায়।প্রয়োজনের চেয়ে কম ঘুম একজনের শারীরিক বয়সকে তার প্রকৃত বয়সের চেয়ে দশ বছর বাড়িয়ে দেয়।

তাই বড় ছোট সকলের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম দরকার।যারা রাতের বেলায় ঠিকমতো ঘুমাতে পারেন না তারা দিনের বেলায় ঘুমিয়ে পুষিয়ে নিবেন।আর ঘুমানোর আগে চা,কফি ইত্যাদি ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় পান করলে ঘুম হয় না।তাই ঘুমনোর অন্তত তিন বা চারঘন্টা আগ পর্যন্ত এসব চা,কফি জাতীয় পানীয় গ্রহণ করা অনুচিত।রাতে হালকা কুসুম পানি দিয়ে গোছল করলে ঘুম ভালো হয়।ঘুমানোর আগে বিছানা গুছিয়ে নেয়া ও পর্যাপ্ত বাতাস আর চারপাশ অন্ধকার আছে কিনা- এ বিষয়ের ওপরও নজর রাখা আবশ্যক।

Leave a Comment