চিন্তিত মনের পরশপাথর

নামকাওয়াস্তে মুসলমানের ট্যাগ গায়ে লাগিয়ে এতি-উতি ঘুরে বেড়াতাম। একদা এক মহামারি এসে আমাকে ঘরকুনো করে দিল।

তারপর থেকে, অন্ধকার ঘরে একাকী বসে আঁধারকেই ঠিক মানিয়ে নিলাম। সহসা ঘরের এককোণের পলেস্তারা খসে পড়ে হলো সুরঙ্গের সৃষ্টি। সেই সুরঙ্গ পথে প্রবেশ করে দ্বীন নামক নূরের আলো।

সেই আলোর রেশ ধরে আমি আঁধারের সেই ঘর থেকে বেড়িয়ে আসি। পাড়ি দেই কণ্টকাকীর্ণ এক দুর্গম পথ।

.

মধ্যিপথে আমাকে থামিয়ে দিতে আসে বেশুমার ঝঞ্ঝাট। প্রবলবেগে কালবৈশাখী ঝড় এসে আমাকে নুইয়ে দিতে চায়। সহস্র কথার বাণে আমি বিদ্ধ হই। তবুও মাথা নোয়াই না। অসীম শক্তিবলে আমি শক্তপায়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকি।

নিকষকালো রাত, আকাশেও নেই চাঁদ। গা ছমছম এই পরিবেশে আমি বাকি পথ পাড়ি দিবো কিভাবে? শতশত প্রশ্ন ফণা তুলে ছোবল মারে, আমার ছোট্ট মস্তিষ্কে।

আমি স্মরণ করি আমার প্রভুকে। আমার রব আমাকে নিরাশ করেননি। তিনি আমাকে পথ দেখিয়েছেন তাঁরই পেয়ারি নবী মোহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেখে যাওয়া মু’জিজায়।

আমি আবারও হাঁটতে শুরু করি। হাঁটতে হাঁটতেই দেখা মিলে একটি পরশপাথরের। আমি অপলকে তাকিয়ে থেকে গেঁথে নেই তাকে আমার মননে। যার ছোঁয়ায় আমার ধৈর্যের খুঁটি হয়েছে শক্ত, চিন্তাগ্রস্ত হৃদয় হয়েছে উৎফুল্ল।

সেই পরশ পাথর হলো, আমার অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি আয়াত। যেটা আছে সূরা ইউনুসের ৬২ নং আয়াতে। তাতে আমার রব তাঁর স্নেহের বান্দাদের অন্তর শীতলের উদ্দেশ্যে বলেছেন-

اَلَاۤ اِنَّ اَوۡلِیَآءَ اللّٰہِ لَا خَوۡفٌ عَلَیۡہِمۡ وَ لَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ﴿ۚۖ۶۲﴾
” জেনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই, তারা চিন্তান্বিতও হবে না।”

এই আয়াত আমার মনে চিন্তার ধূলো ঝেড়ে ফেলেছে। এই আয়াতই আমার জিহ্বায় এনে দিয়েছে তৃপ্ততা।

পরকাল কিংবা দুনিয়াবি চিন্তায় আমি মুষড়ে পড়লে, এই আয়াত বিজলির ন্যায় আমার মস্তিষ্কে জ্বলে উঠে। আমি বার বার আওড়াই আমার রবের সেই মূল্যবান বাণী। মুহূর্তেই দৌড়ে পালিয়ে যায় অজগরের মতো পেঁচিয়ে ধরা সকল উটকো বিষণ্নতা। আমি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি।

রবের কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠে আমার তনু-মন। বিড়বিড় করে বলে উঠি, “আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল ‘আলামীন।”

খানিক বাদেই, আমার হৃদাকাশে উড্ডয়মান প্রশান্তির সবুজ পতাকার পতপত শব্দ শোনা যায়। একলামনে, চুপটি করে বসে আমি সেই শব্দ শুনি। কুঞ্চিত কপালের বিচলিত ভাঁজ উবে যায়। নয়নের কোল বেয়ে ঝরে হর্ষের বৃষ্টি।

লেখা: মেহেজাবীন শারমিন প্রিয়া।

Leave a Comment