গ্যাস্ট্রিক আলসার কী, লক্ষণ, প্রতিকার ঘরোয়া উপায়, চিকিৎসা

গ্যাস্ট্রিক আলসার কী? আমরা সবাই আলসার রোগটির সঙ্গে কমবেশি পরিচিত। সাধারণত রোগীরা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, পেটের আলসার, গ্যাসের ব্যথা, খাদ্যনালির ঘা ইত্যাদি নামে সমস্যাটি উপস্থাপন করে থাকেন। সাধারণত এই রোগ দুই ধরনের পাকস্থলীর আলসার আর একটি হল অন্ত্রের আলসার। মূলত অনিয়মিত খাবার গ্রহণ কিংবা খাবার বাছাইয়ে অসতর্কতা অবলম্বন অথবা অগোছালো জীবনযাপনের কারণে আমাদের দেশে এই রোগটির প্রকোপ মোটামোটিভাবে দেখা যায়।

 

আলসার আসলে কি?
আলসার শব্দটি এসেছে গ্রীক এলকোস নামক শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ দ্বাড়ায় “ক্ষত”।

আলসার এমন একটি রোগ যা খাদ্যনালী কিংবা পেট বা ছোট অন্ত্রের আস্তরণের উপর ঘা বা বিভিন্ন ক্ষতের সৃষ্টি করে থাকে। সাধারণত আলসার বলতে পাকস্থলীর আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসারকেই বোঝানো হয়ে থাকে।গ্যাস্ট্রিক আলসার কী? এছাড়াও ক্ষুদ্রান্ত্রের ভিতর ডিওডেনাম নামক অংশতে এটি সাধারণত হয়ে থাকে যা পেপটিক আলসার হিসেবে পরিচিত।

 

আলসার হওয়ার আসল কারণ কী?
পেটের ভিতর অবস্থিত অ্যাসিড যা আমাদের হজমে সাহায্য করে যখন তা খাদ্যনালীর আস্তরণের ক্ষতি করে থাকে তখন আলসার রোগ হয়। এছাড়াও পেটে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি নামক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি এবং অ্যাসপিরিন নামক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ব্যথা রিলিভার্স ঔষধের অতিমাত্রায় সেবনের কারণে এটি হয়। তেল ঝাল জাতীয় খাবার খেলে ও টেনশনের কারণে এই রোগটি বাড়তে পারে।

গ্যাস্ট্রিক আলসার রোগের লক্ষণ
১. বুক ও পেটের ওপরের অংশে ব্যথা
ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজি স্পেশালিস্ট নীল সেন গুপ্তের মতে, ‘আলসারের সর্বাধিক কমন লক্ষণসমূহের মধ্যে একটি হচ্ছে পেটের উপরিভাগে তীব্র ব্যথা।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ডাইজেস্টিভ ট্র্যাকের উপরিভাগের যে কোনো জায়গায় আলসার ডেভেলপ হতে পারে, কিন্তু আমরা বেশীর ভাগ সময় ভাবি যে এটি পাকস্থলী বা ক্ষুদ্রান্ত্রে হয়ে থাকে, যেখানে আমরা আসলে ব্যথা অনুভব করি।’

সাধারণত আলসার জনিত ব্যথা ব্রেস্টবোন এবং বেলি বাটনের মধ্যবর্তী কোন এক স্থানে হয়ে থাকে। আলসারের কারণেই জ্বালাপোড়া থেকে শুরু করে তীব্র ব্যথা ও হালকা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। প্রথমদিকে ব্যথার অনুভব হালকা ও মাঝারি হতে পারে, কিন্তু বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আলসার ডেভেলপের সঙ্গে সঙ্গে তা অধিক মারাত্মক কোনো কিছুতে পরিণত হয়।

২. বমি বমি ভাব হয়
ডা. সেন গুপ্ত বলেন, ‘আলসারের ১টি অন্যতম কমন লক্ষণ হচ্ছে বমি ভাব।’ আর এম হেলদি ওয়েবসাইট অনুসারে, ‘আলসার আপনার পাকস্থলীর বিভিন্ন পাচক রসের কেমিস্ট্রি পরিবর্তন করে, যার ফলে আপনার বমি বমি ভাব হতে পারে, বিশেষ করে প্রতি সকালে।’ বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আলসার থাকলে খাবার পরিপাক বেদনাদায়ক হয় গ্যাস্ট্রিক আলসার কী, অনেক রোগী বলেন যে তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার কিংবা জাঙ্কফুড খাওয়া কমিয়ে ফেললে বমি ভাব হ্রাস পায়।

৩. বমি হয়
বমি বমি ভাব কখনো কখনো এত তীব্র হয় যে আপনি বমি করে দেন। বারবার বমি হওয়া কোনো ভাল অভিজ্ঞতা নয়, এর চিকিৎসাকালীন সময় স্বাভাবিক ইবুপ্রোফেন ও অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ গ্রহণ করবেন না। ডা. সেনগুপ্তের মতে, ‘এসব ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্যথার ওষুধ প্রকৃতপক্ষে আপনাকে আলসার ডেভেলপের উচ্চ ঝুঁকিতে রাখবে এবং আপনার বিদ্যমান আলসারকে আরো বেশী খারাপ করতে পারে।’

৪. বাথরুম ব্যবহারের সময় রক্তপাত
ডা. সেনগুপ্ত আরো বলেন, ‘গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ট্র্যাক থেকে রক্ত আসা অনেক রকম সমস্যা এর ইঙ্গিত দিতে পারে। এই রক্তপাত পেটের উপরিভাগের ব্যথার সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত হলে অত্যন্ত সন্দেহজনক ব্যাপার হচ্ছে, এটি আলসারের লক্ষণ হতে পারে।’ অনেক রোগী বমি করার সময় অথবা বাথরুম ব্যবহারের সময় রক্ত লক্ষ্য করে থাকে, কালো মল দেখে তারা বুঝতে পারে যে মলের সঙ্গে রক্ত আসছে। যদি এই জিআই ট্র্যাক থেকে রক্তপাত হয় এবং সেই সঙ্গে বমি বমি ভাব ও পাকস্থলী বা বুকে ব্যথা হয়, আপনার ডাক্তার আলসার আছে কিনা গ্যাস্ট্রিক আলসার কী, জানতে ব্লাড টেস্ট বা আপার এন্ডোস্কপি করেন। হেমোরয়েড বা কোলন ক্যানসারের কারণে ও মলের সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে। তাই প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে ডাক্তার দেখানোই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

গ্যাস্ট্রিক আলসার রোগের লক্ষণ

৫. অধিকাংশ খাবারে বুকজ্বালা হয়
যা কিছুই খান না কেন আপনি, যদি আপনার বার বার বুক জ্বালা করে, তাহলে এর জন্য আলসার দায়ী হতে পারে। বেশির ভাগ আলসার রোগীরা বলেন যে তারা তীব্র বুকের ব্যথা অনুভব করেন, যা খাওয়ার পরে স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক ঢেকুর কারণ। অনেক ক্ষেত্রে গ্যাস ও ব্যথা সাময়িকভাবে উপশম করতে সাধারণ ওভার-দ্য-কাউন্টার এন্টাসিড গ্রহণ করা যেতে পারে তবে এটি দিনের পর দিন লেগে থাকলে বুকজ্বালার চেয়েও বেশি মারাত্মক রূপ ধারণ করবে।

৬. পেট স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফাঁপা
আপনার পেট কি সত্যিই ফাঁপা? এটি সামান্য গ্যাস জমার চেয়েও মারাত্মক কোনো কিছু ইঙ্গিত করতেই পারে, যেমন এটি আলসারের লক্ষণও হতে পারে। আরএম হেলদি অনুসারে, বেশীরভাগ ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা হতে পারে আলসারের প্রাথমিক উপসর্গসমূহের একটি, বিশেষ করে সেই সব রোগীদের বেলায় যারা মিডসেকশন বা কোমর ব্যথার অভিযোগ জানায়। শরীর সহ্য করে না এমন খাবার খাওয়া কিংবা পর্যাপ্ত পানি পান না করাও পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। পেট ফাঁপার সঙ্গে আলসারের অন্য উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

৭. খাবার ইচ্ছা কমে গেছে
আলসার রোগীদের খাবারের প্রতি আগ্রহ হ্রাস পায় বা ক্ষুধা কমে যায়। ক্ষুধা হ্রাস এবং সেই সঙ্গে মাঝে মাঝে বমি অপ্রত্যাশিত ভাবে তাদের ওজন কমিয়ে ফেলে। কিছু আলসার রোগীরা বলেন যে, স্বাভাবিক পরিমাণে আহার সত্ত্বেও তাদের ওজন হ্রাস পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, আলসার নিজেই ওজন কমাতে পারে।

৮. আপনার অস্বাভাবিক ক্ষুধা লাগে
যদিও আলসার ক্ষুধা হ্রাস করতে পারে, কিন্তু সাধারণত খাওয়ার ৩-৪ ঘন্টা পর নাভি ও বুকের মধ্যবর্তী স্থানের ব্যথাকে কখনো কখনো ক্ষুধা মনে করে ভুল হয়। যদি এটি পাকস্থলীর আলসারের কারণে হয় তাহলে খাবার খেলে ব্যথা চলে যায়। কিন্তু ভোজনে নিম্নস্থ ক্ষুদ্রান্তের আলসারের কোন ব্যথা দূর হয় না।

৯. আপনার পিঠ ব্যথা হয়
পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্তে বিভিন্ন রকম আলসার হতে পারে, কিন্তু আলসারের ব্যথা পিঠেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজিস্ট শিল্পা রাভেলা ওমেন’স হেলথ কে বলেন, ‘যদি আলসার অন্ত্রের প্রাচীর ভেদ করে তবে ব্যথা অধিক তীব্র ও অধিক সময় ধরে হতে পারে এবং উপশম করা কঠিন হতে পারে।’

১০.বেশি বেশি ঢেকুর ওঠে
আলসারের সর্বাধিক কমন লক্ষণসমূহের মধ্যে একটি হচ্ছে, বদহজম এবং এই কারণেই আপনার ঢেকুর ওঠতে পারে। যদি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঢেকুর তোলেন এবং উল্লেখিত উপসর্গের যেকোনো একটি লক্ষ্য করেন তাহলে দ্রুত ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলুন।

আলসার প্রতিকারের ঘরোয়া উপায়
আলসার প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় অনেক আছে তার মধ্যে কিছূ আলসার প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় নিচে দেওয়া হল। পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার আসলেই জটিল কোনো রোগ নয়। ডাক্তারি পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে সহজেই এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই রোগ থেকে প্রতিকারের সহজ কিছু উপায়।

১. ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত জাতীয় খাবার কম খাওয়া।

২. ধূমপান ও অ্যালকোহল জাতীয় গ্রহণ বর্জন করা।

৩. ক্যাফেইনযুক্ত জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা।

৪. অ্যাসপিরিন ও ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলা। মনে রাখতে হবে এই ওষুধগুলোর কারণেই আলসারের সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে।

৫. ভিটামিন এ, সি ও ই-যুক্ত ফলমূল ও শাকসবজি খুবই বেশি পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করা। এই ভিটামিনগুলো আলসারের ঘা শুকাতে সাহায্য করে।

৬. ফাস্ট ফুড, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও কোমলপানী জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলা।

৭. প্রয়োজনমাফিক বিশুদ্ধ জাতীয় পানি পান করা।

আলসারের চিকিৎসা
আলসারের সমস্যা হলে নিজে চিকিৎসা গ্রহণ না করে ভাল চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে সমস্যাটি আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে মনে রাখতে হবে যে আলসারের কারণে অন্ত্র বা পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণও হতে পারে এবং পায়খানার সঙ্গে রক্তও যেতে পারে। অনেক সময় অন্ত্র বা পাকস্থলীতে ফুটো হয়ে যেতে পারে। তাই আলসারের সমস্যা হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক ওষুধ গ্রহণ করুন।

আলসার হলে করণীয় :
চিকিৎসা পদ্ধতি আধুনিক হওয়ায় সহজেই এখন এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। পেপটিক বা গ্যাস্ট্রিক আলসার তেমন জটিল কোনো রোগ নয়। গ্যাস্ট্রিক আলসার এর লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা গ্রহণের সাথে সাথে খাদ্যা অভ্যাসে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে খাদ্যাভাসে যে পরিবর্তনগুলো আনতে হবে সেগুলো উপরে দেওয়া হয়েছে, দয়াকরে আলসার প্রতিকারের ঘরোয়া উপায় থেকে পড়ে নিন।

 

আলসার ভালো করার উপায়
অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং জীবন যাপনের কারণেই অনেকেই আলসারের সমস্যায় ভুগে থাকেন। বর্তমান বিশ্বের ২.৪ থেকে ৬.১ শতাংশ মানুষ আলসারের সমস্যায় ভুগছেন। পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রাথমিক অবস্থায় থাকলে তা সহজেই সারিয়ে তোলা সম্ভব হয়। আবার কখনো কখনো পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার মারাত্মক আকার ধারণ করলে অপারেশনের শরণাপন্ন হতে হয়। এক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিক আলসার এর লক্ষণ প্রকাশ পেলে শুরুতেই খাদ্যা অভ্যাসে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে। খাবারে সবরকম অনিয়ম পরিত্যাগ করতে হবে। সময়মত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি সচেতন জীবন যাপন করতে হবে।

 

আলসার হলে কি কি খাওয়া যাবে না
পেপটিক আলসার বা পাকস্থলীর আলসার হলে খাবার গ্রহণে যথেষ্ট সচেতন থাকা আবশ্যক। এক্ষেত্রে এমন কিছু খাদ্য রয়েছে যেগুলো খাদ্য তালিকা হতে অবশ্যই বর্জন করতে হবে। পেপটিক আলসারে বর্জনীয় খাবারগুলো নিচে দেওয়া হলোঃ

১. কফি কিংবা ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার

২. অতিরিক্ত মশলা কিংবা ঝাল জাতীয় খাবার

৩. লাল জাতীয় মাংস অর্থাৎ গরু,খাসী ইত্যাদির মাংস

৪. দুধ ও দুগ্ধ জাত খাদ্য ইত্যাদি

আলসার হলে কী লেবু খাওয়া যাবে
অনেকেই মনে করেন লেবু খেলে অ্যাসিডিটি বেড়ে যায় এবং গ্যাস্ট্রিক আলসার এই লক্ষণ দেখা দিলে লেবু বর্জন করেন। তবে এটি একটি সম্পুর্ন ভুল ধারণা। লেবু সাধারণত অ্যাসিডিটি বাড়ায় না বরং কমাতে সাহায্য করে। লেবুতে রয়েছে সাইট্রিক এসিড যা পাকস্থলীতে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ইত্যাদি লবণের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম সাইট্রেট, পটাশিয়াম সাইট্রেট ইত্যাদি যৌগ তৈরি করে এবং পাকস্থলী থেকে ক্ষরিত হয় হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড।

এই হাইড্রোক্লোরিকের কারণেই বুক-জ্বালা, গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ক্ষারধর্মী সোডিয়াম সাইট্রেট যৌগটি অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এতে করে আর বদহজম হয় না। সুতরাং লেবু হজমে সাহায্য করে। অর্থাৎ পেপটিক বা গ্যাস্ট্রিক আলসার হলে লেবু খাওয়া যাবে।

পেপটিক আলসার রোগীর খাবার
পেপটিক আলসার মূলত এক ধরনের ঘা বা ক্ষত জনিত রোগ। তবে পেপটিক আলসার সহজেই নিরাময় সম্ভব।এই জন্য রোগীকে চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি সঠিক খাদ্য নির্বাচন করতে হবে। পেপটিক আলসারে আক্রান্ত রোগীর জন্য উপকারী খাবারসমূহ নিচে আলোচনা করা হল।

আলসার ভালো করার উপায়

ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার :
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের মাধ্যমে পেপটিক আলসারের ঝুঁকি অনেক কমে আসে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করে। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমনঃ ওটস, ডুমুর, ব্রকলি, মিষ্টি আলু, আপেল, গাজর ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে।

ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার
ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার আসলেই আলসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার পাশাপাশি আলসারের ক্ষত সারাতে সহায়তা করে থাকে। পেপে, গাজর, কুমড়া, আম,মিষ্টি আলু,পালংশাক, রেড বেল পিপার প্রভৃতি ভিটামিন-এ জাতীয় খাবার প্রতিদিন খেতে হবে।

ফ্লাভোনয়েড সমৃদ্ধ খাবার
ফ্লাভোনয়েড সমৃদ্ধ খাবার গ্রীন টি, রসুন, পেয়াজ, আদা, রঙিন শাকসবজি এবং ফল নিয়মিত গ্রহণে আলসারের ক্ষত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

প্রো-বায়োটিক খাবার :
দই, খিমচি, মিসো, প্রভৃতি প্রো-বায়োটিকযুক্ত খাদ্য দ্রুত আলসারের ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে।

পেপটিক আলসার রোগের চিকিৎসা
পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার সত্যিই সহজেই নিরাময়যোগ্য। এজন্য অবহেলা না করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা আবশ্যক। তবে সময়মত চিকিৎসা গ্রহণ না করলে নানা রকম জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো পাকস্থলী ফুটো হয়ে যেতে পারে এবং রক্ত বমি হতে পারে। তাই গ্যাস্ট্রিক আলসার এর লক্ষণ প্রকাশ পেলেই চিকিৎসকের নিকটস্থ হতে হবে। সাধারণত প্রাথমিক অবস্থায় অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ সেবনে রোগীরা উপকৃত হয়ে থাকেন।

তবে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ গ্রহণের পরও যদি রোগী ভালো না হয়, এবং খাদ্য গ্রহণের সাথে সাথে বমি হয়ে যায়, অর্থাৎ পৌষ্টিক নালির কোনো অংশ যদি সরু হয়ে পড়ে, সে ক্ষেত্রে অপারেশনের পথ বেছে নিতে হয়। এবং এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয়।

সুতরাং পেপটিক আলসার বা গ্যাস্ট্রিক আলসার অতি সাধারণ কমন একটি রোগ। তাই এই রোগ থেকে মুক্তি পেতে আমাদের সচেতন থাকতে হবে এবং সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে হবে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস বর্জন করতে হবে। গ্যাস্ট্রিক আলসার এর লক্ষণ প্রকাশ পেলেই গ্যাস্ট্রিক ভেবে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে গ্যাস্ট্রিক আলসার কী, এবং মনে রাখতে হবে প্রতিকারের থেকে প্রতিরোধ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই পেপটিক বা গ্যাস্ট্রিক আলসার হতে পারে এসব কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

 

গ্যাস্ট্রিক আলসার থেকে ক্যান্সার
গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রধানত হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট হয়। এর সংক্রমণ কার্সিনোমা বা ক্যান্সারের সাথে যুক্ত। গ্যাস্ট্রিক বা পেপটিক আলসার: এটি সবচেয়ে সাধারণ গ্যাস্ট্রিক আলসার। এটি ডিএনএ-তে রূপান্তরিত হয় এবং পাকস্থলীর আস্তরণের কোষগুলির ক্ষতি করে। দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ পেটের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ এবং এমনকি পাকস্থলীর ক্যান্সারের কারণ হতে পারে, কারণ ম্যালিগন্যান্ট গ্যাস্ট্রিক টিস্যু স্বাভাবিকভাবেই অন্ত্রের বা তন্তুযুক্ত টিস্যু দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় গ্যাস্ট্রিক আলসার কী,। এই মিউটেশন পাকস্থলীর ক্যান্সারের প্রথম লক্ষণগুলির মধ্যে একটি কারণ এটি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।

কিছু কিছু কারণে পাকস্থলীর আলসার থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। গ্যাস্ট্রিক আলসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সচেতন হওয়া উচিত যে অ্যালকোহল, ধূমপান বা তামাক চিবানো পেটের আলসার হওয়ার ঝুঁকিকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এই ধরনের ওষুধ পাকস্থলীর অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ায়। অ্যাসপিরিন এবং অন্যান্য প্রদাহ-বিরোধী ওষুধগুলি পাকস্থলীর প্রতিরক্ষামূলক শ্লেষ্মা তৈরির ক্ষমতা হ্রাস করে এবং তারা পাকস্থলীর অ্যাসিড উত্পাদনকে ত্বরান্বিত করে। এই ওষুধগুলি পেটে রক্ত ​​​​প্রবাহ কমিয়ে দেয়, শরীরের কোষ মেরামত করার ক্ষমতা নষ্ট করে। এই সমস্ত কারণগুলি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। এই রোগীদের ক্ষেত্রে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের দ্বারা পরীক্ষা করা ভাল। এগুলো পাকস্থলীর ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। গ্যাস্ট্রিক আলসারের চিকিৎসার জন্য ওষুধ রয়েছে। এই ওষুধগুলি ক্যান্সারের পর্যায়ে গ্যাস্ট্রিক আলসার কী, পৌঁছানোর আগে পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা কমায় এবং এর পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা রোধ করে।

Leave a Comment

betvisa