গন্তব্যে পৌঁছে গেলে, দেরী না করে পরবর্তী গন্তব্যের জন্য তৈরী হওয়া

“Each success only buys an admission ticket to a more difficult problem.”

সফলতা আর লালসার জাল এমন যে, একটা অর্জন হয়ে গেলে হাভাতের মতো সামনের আর একটার জন্য মানুষ মরিয়া হয়ে ওঠে।

যারা জানে জীবন থেকে তারা কি চায় এবং কতটা চায় ও সেটা নিয়ে ব্যাস্ত থাকে তাদের জন্য এই পৃথিবীটা খুব সুন্দর।

এ চাওয়া শুধু অর্থ বিত্তেরই না। সম্পদের পাহাড় না গড়ে পাশাপাশি মানবতার জন্য মহান কোন কাজও হতে পারে। শিল্প সংস্কৃতি হতে পারে। হতে পারে কোন প্যাশান বা শখ। তবে ব্যস্ত থাকতে হবে।

আমরা সবচেয়ে সুখী যখন আমরা কোনো লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সংগ্রাম করি। যখন আমরা একটা গন্তব্যে পৌঁছে যাই, তখনই অন্য একটা বড়ো গন্তব্য ঠিক করা খুবই প্রয়োজন।

না হলে এক ধরণের অবসাদ ঘিরে ধরতে পারে। ক্লিমেন্ট স্টোন এটাকে “inspirational dissatisfaction” বলেছেন।

যখনই বিরক্তি ঘিরে ধরে তখনই উচিত কাজে নেমে ঘাম ঝরানো।
যখন বর্তমানের গন্তব্যে পৌঁছে গেলে, দেরী না করে পরবর্তী গন্তব্যের জন্য তৈরী হওয়া।

কোনো লক্ষ্য অর্জিত হয়ে যাওয়ার অর্থ এর চেয়ে বেশি কঠিন কোনো সমস্যা সমাধানের জন্য উঠে পড়ে লেগে যাওয়া।

এভাবে পরিকল্পনা করে এগুলে তুমি কখনোই একঘেয়েমি বা অবসাদে আক্রান্ত হবে না।

বর্তমানের লক্ষ্য অর্জন কতদূর?
পরের কঠিন কোনো লক্ষ্য দেরি না করে ঠিক করে ফেলো।

যদি এভাবে হিসাব করে আগাও তাহলে জীবন ও জগৎ অনুপম মনে হবেঃ

“মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে,
মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই।।-রবীন্দ্রনাথ

তা না হলে সব কিছু বিষাক্ত মনে হবে। জীবনটা বয়ে বেড়ানোটাই কঠিন হবে। উচ্চারিত হতে পারেঃ

“মরণরে তুহু মম শ্যাম সমান
মেঘ বরণ তুঝ, মেঘ জটাজুট,
রক্ত কমল কর, রক্ত অধর-পুট,
তাপ-বিমোচন কৰুণ কোর তব,
মৃত্যু অমৃত করে দান!
তুহু মম শ্যাম সমান। ভানু সিংহের পদাবলী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

কোন পথে হাটবা সে সিদ্ধান্ত তোমার।

Leave a Comment