খুলনা বিভাগে করোনা শনাক্তের হার বেড়ে ৮ শতাংশ, রাত ৮টার পর দোকান বন্ধ

খুলনা বিভাগে করোনা শনাক্তের হার ঊর্ধ্বমুখী। চলতি মাস থেকে দৈনিক করোনা শনাক্তের হার বাড়ছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৬৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশের ওপরে। যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় শনাক্তের হার ১০ শতাংশের ওপরে।

এমন পরিস্থিতিতে আজ মঙ্গলবার রাত ৮টার পর থেকে দোকান ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে জরুরি সভা করেছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৬, যশোরে ১১, ঝিনাইদহে ৪, খুলনায় ১২, কুষ্টিয়ায় ১৭ ও সাতক্ষীরায় ১ জন আছেন। এই সময়ে মাগুরা জেলার কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি। আর মেহেরপুর, নড়াইল ও বাগেরহাটে কারও করোনা শনাক্ত পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত বিভাগে মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৭ জনের। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বিভাগে মারা গেছেন ৩ হাজার ১৯৪ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিভাগের মধ্যে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ১৯ মার্চ চুয়াডাঙ্গায়। গত বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিনই করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের ওপরে ছিল। গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নামে। এরপর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত শনাক্তের হার আর কখনো পাঁচের ওপরে ওঠেনি। গত ২৮ ডিসেম্বর শনাক্তের হার ছিল ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। সপ্তাহখানেক আগে থেকে শনাক্তের হার বাড়তে থাকে। চলতি মাসের ৯ জানুয়ারি শনাক্তের হার ছিল ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ১০ জানুয়ারি শনাক্তের হার বেড়ে হয় ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ। আর আজ মঙ্গলবার করোনা শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক মো. মুনজুরুল মুরশিদ বলেন, সারা বিশ্বে ও দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। অমিক্রনে সংক্রমণের হারও বেশি, দ্রুত ছড়ায়। খুলনায়ও সংক্রমণ কিছুটা বেড়েছে। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ঘর থেকে বের হলে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণসহ মাস্ক ব্যবহার করতে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিভাগের ১০ জেলার সিভিল সার্জনকে নিয়ে আজ অনলাইনে জরুরি সভা করেছেন খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক। সভার বিষয়ে বিভাগীয় পরিচালক মো. মুনজুরুল মুরশিদ বলেন, বিভাগের হাসপাতালগুলোতে করোনা চিকিৎসার প্রস্তুতি কেমন আছে, তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। অক্সিজেন সরবরাহ, ভেন্টিলেটর ব্যবস্থাসহ সব ঠিকঠাক রাখার বিষয়ে কথা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা, মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। করোনা পরীক্ষা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এদিকে খুলনা নগরে মঙ্গলবার রাত ৮টার পর সব বিপণিবিতান ও দোকান বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে খুলনা জেলা ও মহানগর করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘ভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার আগেই আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। ১১ জানুয়ারি থেকে রাত ৮টার পর নগরের মার্কেট-দোকান খোলা রাখা যাবে না। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামাল পরিবহন ও কাঁচামালের আড়তের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা প্রযোজ্য নয়।’

Leave a Comment