হাসতে হাসতে হাত দিয়ে নাক ঢাকে কেন

হাসতে হাসতে হাত দিয়ে নাক ঢাকে কেন ?

হাত দিয়ে নাক ঢাকে কেন ? আপনি সচারাচর দেখতে পাবেন, কেউ কথা বলার সময় হাসতে হাসতে হাত দিয়ে নাক ঢেকে ফেলে। অনেক সময় আপনিও এই কাজটি করে থাকেন। আসলে এটি কেউ ইচ্ছা করে করে না। অনেকে এটাকে মুদ্রাদোষও বলে থাকেন। টিভিতে নাটক কিংবা ছবিতে এই নাক ঢাকাটা অনেকে অভিনয়ের অংশ হিসেবে ধরে নেন। কিন্তু টক শো কিংবা লাইভ শো তে যদি কেউ এই কাজটি করেন তখন কি বলবেন ? মুদ্রাদোষ ? অভ্যাস ? আসলে এটা অভ্যাস বলেন আর মুদ্রাদোষ বলেন, এর পেছনেও রয়েছে বিজ্ঞান।

ভিডিও কল-এ কথা বলছেন, দেখবেন এক সময় কথার ফাঁকে হাসতে হাসতে আপনি অথবা ওপাশে থাকা ব্যক্তিটি হাত দিয়ে নাক ঢাকছে। তবে এই ঘটনাটি স্বল্প সময়ের জন্য ঘটে। আবার এই হাত দিয়ে নাক ঢাকাটা পুরুষের তুলনায় মেয়েরা বেশি করে থাকে।

মেয়েরা হাসতে হাসতে নাকে হাত দেন কেন ?

কোন স্টেজে বসে অনুষ্ঠান দেখছেন, কোন গান বা কৌতুক শুনছেন এমতাবস্তায় হঠাৎ আপনার হাত কখন নাকে যাবে আপনি টেরও পাবেন না।

আসুন জেনে নিই বিজ্ঞান কি বলে?

মেয়েরা হাসতে হাসতে নাকে হাত দেন কেন

মানব শরীরে নানা ধরনের গ্রন্থি রয়েছে, যা থেকে হরমোন বা গ্রন্থিরস বের হয়। আর এসব হরমোন বা গ্রন্থিরসের কারণে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো বিভিন্ন রকম কাজ করে। তেমনি একটি হরমোন হলো অ্যাড্রিনালিন। মানুষ যখন লজ্জা পায় বা উচ্চ হাসি হাসে তখন এই হরমোন নিঃসরণ বেড়ে যায়। এর ফলে হৃৎপিণ্ডের রক্তপ্রবাহের গতি বেড়ে যায়, রক্তনালি সংকুচিত হয়ে সৃষ্টি হয় রক্তচাপ।

ছেলেরা হাসতে হাসতে নাকে হাত দেন কেন ?

কিন্তু মজার ব্যাপার হলো অ্যাড্রিনালিন শরীরের সব জায়গার রক্তনালিকে সংকুচিত করলেও মুখমণ্ডলের চামড়ার নিচে থাকা রক্তজালিকাগুলোর ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না। ফলে শরীরের অন্যান্য রক্তনালি সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুখমণ্ডলের নিচে থাকা রক্তজালিকাগুলোর রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায় হাত দিয়ে নাক ঢাকে কেন।

ছেলেরা হাসতে হাসতে নাকে হাত দেন কেন

মুখের রক্তজালিকাগুলো নাক,গাল, কপাল, থুতনি, ঘাড় এবং কানের কাছে ছড়িয়ে থাকায় এসব জায়গায় রক্ত চলাচল একটু বেশিই বাড়ে। আর এ কারণেই মানুষ যখন লজ্জা পায় বা হাসতে শুরু করে তখন এই জায়গাগুলোতে কিছু একটা অনুভূত হয় যা একমাত্র মস্তিস্ক টের পায়।

হাত দিয়ে নাক ঢাকে কেন ?

এখানে প্রশ্ন করতে পারেন যে, তাহলে হাতের প্রসঙ্গটা কেন আসলো?

মস্তিস্ক মাবনদেহের সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে পরিচালনা করে থাকে। মস্তিস্ক আগাম তথ্য সরবরাহ করে অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে তরাণ্বিত করতে সাহায্য করে থাকে।যেমন ধরুন আপনাকে কেই সুড়সুড়ি দিলে আপনি হাসবেন হাত দিয়ে নাক ঢাকে কেন কিন্তু আপনি নিজে নিজেকে সুড়সুড়ি দিলে হাসবেন না।

জীববিজ্ঞানী এবং স্নায়ুবিজ্ঞানীরা মনে করেন সুড়সুড়ি দিলে আমরা হাসি কারণ স্পর্শের সিগন্যাল থেকে মস্তিষ্কের হাইপোথেলামাস আমারদের হাসার অনুভুতি সৃষ্টি করে। যখন আপনি নিজে নিজেকে সুড়সুড়ি দিতে যান তখন আপনার মস্তিষ্কের সেরিবেলাম আপনাকে আগেই বলে দেয় যে আপনি এখন নিজেকে নিজেই সুড়সুড়ি দিবেন। তাই আপনার মস্তিষ্ক আপনার অতি মূল্যবান সময় এই সিগন্যাল গুলো গ্রহণ করে নষ্ট করতে চায়না।আর তাই আপনি নিজেকে নিজে সুড়সুড়ি দিলে তা হয় না।

হাসতে হাসতে হাত দিয়ে নাক ঢাকে কেন

আর মানুষ চোখ দিয়ে যে অঙ্গ দেখতে পায় না সেই অঙ্গে কোন অনুভূতি হলে সবার আগে হাত সেখানে স্পর্শ করবে। যেমন ধরুন, আপনার পিঠে কোন মশা বা মাছি পড়ছে তৎক্ষণাত হাত সেখানে থাপড়ে মারবে হাত দিয়ে নাক ঢাকে কেন। নাকের বেলায় ঠিক তেমনি হয়। হাসার সময় নাকে যেহেতু আঘাত অনুভূত হয় না তাই হাত সেখানে থাপড়ের পরিবর্তে  ঢেকে ধরে।

বড়দের তুলনায় ছোটদের এবং ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের আবেগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। তাই তাদের অ্যাড্রিনালিন নিঃসরণও বেশি হয় তাই ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এই কাজ বেশি করে থাকে হাত দিয়ে নাক ঢাকে কেন। এবং ছোটরা তো আরও বেশি করে হাত দিয়ে নাক ও মুখ ঢাকে।

রংপুর ডেইলী রংপুরের সবচেয়ে আপডেট সংবাদ দেশ ও আন্তজার্তিক নিউজ প্রকাশে বাধ্য থাকিবে। রংপুরের সব রকমের নিউজ পেতে রংপুর ডেইলী ভিজিট করুন