সিলেটসহ বন্যাকবলিত ৪ জেলায় জনশুমারির সময় বাড়ছে

সিলেটসহ বন্যাকবলিত ৪ জেলায় জনশুমারির সময় বাড়ছে

মঙ্গলবার মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনশুমারির তথ্য সংগ্রহের কাজ। কিন্তু বন্যার কারণে চারটি জেলায় জনশুমারির সময় আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে ২৮ জুন পর্যন্ত।

জনশুমারি ও গৃহগণনা প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) দিলদার হোসেন বলেছেন, অন্য জেলা থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে তাঁরা সন্তুষ্ট। তবে চারটি জেলা বন্যাকবলিত হওয়ায় সেখান থেকে কাঙ্ক্ষিত তথ্য মেলেনি। তা ছাড়া বিদ্যুৎ–বিচ্ছিন্ন থাকায় ট্যাবে (ট্যাবলেট কম্পিউটার) চার্জ নেই। এসব দিক বিবেচনা করে বন্যা আক্রান্ত চারটি জেলায় শুমারির সময় আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে।

 

দেশে জনশুমারির কাজ শুরু হয় ১৫ জুন থেকে। আজ ২১ জুন (মঙ্গলবার) মধ্যরাতে তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু হঠাৎ ১৬ জুন সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যা শুরু হয়। এতে পুরো সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ–সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে এ দুই জেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি গণনাকারীরা। মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় একই চিত্র। বন্যার কারণে তথ্য সংগ্রহ করা যায়নি এ দুই জেলায়। সে কারণে শুমারির সময় আরও সাত দিন বাড়ানো হয়েছে।

কুড়িগ্রাম, জামালপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলা বন্যা আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই সব জেলায় কেন সময় বাড়ানো হলো না, জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন বলেন, মাঠপর্যায় থেকে তাঁদের কাছে যে তথ্য এসেছে, তাতে ওই সব জেলা থেকে তথ্য পেতে বেগ পেতে হয়নি। সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা গেছে। সে কারণে চারটি জেলার বাইরে অন্য জেলার জন্য সময় বাড়ানো হয়নি।

তবে বিবিএস বলছে, অন্য জেলার কেউ শুমারি থেকে বাদ পড়লে পরে নাম অন্তর্ভুক্তের সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে নিজ জেলার বিবিএস কার্যালয়ে গিয়ে তথ্য দিতে হবে।

মঙ্গলবার রাতে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বন্যাকবলিত এলাকার একাধিক পরিসংখ্যান কর্মকর্তার। তাঁরা বলেছেন, ঢাকা থেকে তাঁদের বলা হয়েছে মাঠে থাকার জন্য। গণনাকারীদেরও তাঁদের এলাকায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। বন্যার পানি নামা শুরু করলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য আনতে বলা হয়েছে তাঁদের। আপাতত বন্যার পানি কমার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা।

বিবিএসের তথ্য বলছে, দেশ স্বাধীনের পর এখন পর্যন্ত পাঁচটি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম আদমশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর ১৯৮১ সালে দ্বিতীয়, ১৯৯১ সালে তৃতীয়, ২০০১ সালে চতুর্থ ও ২০১১ সালে পঞ্চম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে পরিসংখ্যান আইনের মাধ্যমে আদমশুমারি শব্দটিকে পরিবর্তন করে জনশুমারি করা হয়। আগের প্রতিটি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল জানুয়ারি থেকে মার্চ এ সময়ে। জরিপ কিংবা শুমারি পরিচালনার জন্য এ তিন মাস সময় বেছে নেওয়া হয়। কিন্তু এবারই প্রথম বর্ষাকালে জনশুমারি হতে যাচ্ছে।

রংপুর ডেইলী রংপুরের সবচেয়ে আপডেট সংবাদ দেশ ও আন্তজার্তিক নিউজ প্রকাশে বাধ্য থাকিবে। রংপুরের সব রকমের নিউজ পেতে রংপুর ডেইলী ভিজিট করুন