RANGPUR DAILY

বাংলাদেশে তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা ‘সংকটে’: রিপোর্ট

বিশ্বের মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ এমন স্থানে বসবাস করে যেখানে মানুষ অবাধে তথ্য পেতে বা তা একে অপরের সঙ্গে আদানপ্রদান করতে পারে। এই সম্পর্কিত শ্রেণীকরণের একদম শেষ ধাপে রয়েছে বাংলাদেশ। যাকে বলা হচ্ছে ‘ইন ক্রাইসিস’ বা ‘সংকটে’।

বিশ্বব্যাপী মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিয়ে নিজেদের সর্বশেষ গবেষণার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটেন ভিত্তিক একটি গ্রুপ।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গ্লোবাল এক্সপ্রেশন রিপোর্ট আর্টিকেল নাইন্টিন ২০২২ সালের তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ‘-১২’ পরিবর্তিত হয়েছে, এবং ‘হাইলি রেস্ট্রিকটেড’ বা ‘অত্যন্ত সীমাবদ্ধ’ থেকে ‘ইন ক্রাইসিস’ বা ‘সংকটে’ শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম ও বিভাগীয় হেফাজতে মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদের প্রসঙ্গ গুরুত্ব সহকারে উঠে এসেছে। রোজিনা মহামারিকালে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গিয়ে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের অধীনে আটক হন। অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা অধীনে বিচার চলছিল প্রয়াত মুশতাকের।

সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশে ‘কুখ্যাত’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহারের কারণে ৪৪৩ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, ‘বেশিরভাগই মিথ্যা তথ্যের প্রদানের’ অভিযোগে। যা ২০২০ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি ছিল।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, মুশতাক আহমেদকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন নির্যাতন করেছিল। ডিসেম্বর ২০২১ থেকে পরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে জোরপূর্বক নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তির কমপক্ষে ১০ জন আত্মীয়ের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থানে আরও রয়েছে আফগানিস্তান, মায়ানমার, হংকং ও সুদান।

পাকিস্তান ও ভারতের অবস্থাও খারাপ হয়েছে, তাদের ‘অত্যন্ত সীমাবদ্ধ’ বিভাগে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ৮০-১০০ স্কোর পাওয়া দেশগুলো ‘ওপেন’ বিভাগে শ্রেণীবদ্ধ হয়েছে। ৬০-৭৯ স্কোর ‘লেস রেস্ট্রিকটেড’, ৪০-৫৯ স্কোর ‘রেস্ট্রিকটেড’, ২০-৩৯ ‘হাইলি রেস্ট্রিকটেড’ ও ০-১৯ স্কোর পাওয়া দেশগুলো রয়েছে ‘ইন ক্রাইসিস’ শ্রেণিতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন, মিয়ানমার ও রাশিয়ার মতো ‘কর্তৃত্ববাদী’ দেশ এবং ব্রাজিল ও ভারতের মতো ‘গণতান্ত্রিক’ দেশে বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার ৮০ শতাংশের এক দশক আগের তুলনায় কম মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে।

কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠি ও শাসকেরা জনগণ যা দেখেন, শোনেন কিংবা বলেন তার ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেই চলেছে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কথা উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে। তবে লাখ লাখ মানুষের ‘পরিচয়, তথ্য ও মতামতের ওপর কর্তৃত্ব আরোপের ক্ষেত্রে’ চীন সরকারের অবস্থান সবচেয়ে চরম অবস্থায় রয়েছে।

১৬১টি দেশে ২৫টি করে সূচক ব্যবহার করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দেখা হয়েছে প্রতিটি ব্যক্তি হয়রানি, আইনি প্রতিক্রিয়া বা সহিংসতার ভয় ছাড়াই সমাজে মত প্রকাশ, যোগাযোগ ও অংশগ্রহণের জন্য কতটা স্বাধীন। প্রতিটি দেশের জন্য শূন্য থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোর তৈরি করা হয়।

এই বছরের রিপোর্ট অনুযায়ী ডেনমার্ক ও সুইজারল্যান্ডের অবস্থান শীর্ষে। প্রতিটি সূচকে তাদের স্থান ৯৫। নরওয়ে ও সুইডেনের স্কোর ৯৪, এস্টোনিয়া ও ফিনল্যান্ডের স্কোর ৯৩। গবেষণায় দেখা গিয়েছে সবার শীর্ষে রয়েছে ইউরোপের দেশ ১০টি রয়েছে সবার শীর্ষ।

আর্টিকেল নাইন্টিনে উত্তর কোরিয়াকে বিশ্বের সবচেয়ে দমন-পীড়ন মূলক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং যার স্থান একেবারে শূন্যে। ইরিত্রিয়া, সিরিয়া ও তুর্কমেনিস্তানের স্কোর ছিল এক এবং বেলারুশ, চীন ও কিউবার স্কোর ছিল দুই।

এই স্কেলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ৩০তম। ২০১১ সালে সারা বিশ্বের মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল নবম। যুক্তরাষ্ট্রের স্কোরের এবার নয়-পয়েন্ট কমে গিয়েছে। তাতে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নেমে এসেছে।

এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে গত দুই দশকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অনেক বেশি পরিবর্তন ঘটেছে। এর মধ্যে বেশকিছু দেশে ক্ষমতা দখল বা অভ্যুত্থানের ফলে ঘটে তবে অন্যান্য অনেক দেশেই প্রায়শই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেতাদের অধীনে অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে দেখা গেছে।

প্রতিবেদনের নাম আর্টিকেল নাইন্টিন নেওয়া হয়েছে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা থেকে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রত্যেকেরই মতামত ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে; এই অধিকারগুলোর মধ্যে রয়েছে, হস্তক্ষেপ ছাড়াই মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং যে কোনো সংবাদ মাধ্যমের মাধ্যমে এবং দেশের সীমান্ত নির্বিশেষে তথ্য পাওয়ার এবং সন্ধানের, গ্রহণ করার এবং সরবরাহ করার স্বাধীনতা থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.