বন্যার্তদের উদ্ধারসহ ৫ কাজ করছে সেনাবাহিনী

বন্যার্তদের উদ্ধারসহ ৫ কাজ করছে সেনাবাহিনী

স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় বড় বিপদে পড়েছেন সিলেট ও সুনামগঞ্জের লাখ লাখ মানুষ। ঘরে, সড়কে, চারিদিকে থৈ থৈ পানি। পানিবন্দি মানুষ এখন অসহায়। অসুস্থ, বৃদ্ধ, নারী-শিশুদের জীবনরক্ষায় পরিবারের পুরুষরা শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনেকে ঘরের ভেতর কলাগাছ কিংবা বাঁশের ভেলা বানিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। বন্যার্তরা খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন। অনেকে অনাহারে-অর্ধাহারে আছেন।

এদিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যাকবলিত মানুষদের উদ্ধার এবং ভয়াবহ বিপর্যয় মোকাবিলায় সিভিল প্রশাসনের সঙ্গে মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনীও। সেনাবাহিনীর ৯ ইউনিট শুক্রবার সকাল থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের উদ্ধার ও সহায়তায় কাজ করছে। নৌকা দিয়ে প্লাবিত এলাকার বাড়িঘর থেকে পানিবন্দি লোকজনকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সেনাবাহিনী সদস্যরা।

সিলেট নগরী, জেলার বিভিন্ন উপজেলা, সুনামগঞ্জ জেলা সদর ও জেলার ১২টি উপজেলা বন্যার জলে ভাসছে। কোথায় কোথায় ঘরে হাঁটু থেকে গলাসমান পানি ওঠায় অনেকে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন, সেই সাথে পাচ্ছেন না খাদ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ খাবার পানিও। তৈরি হয়েছে চরম মানবিক বিপর্যয়, বন্যার পানি যত বাড়ছে-সংকটও তত বাড়ছে।

তবে সেনাবাহিনী বন্যার্তদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে সেখানে তাদের আনার ব্যবস্থা ও আক্রান্তদের চিকিৎসা সহায়তা শুরু করেছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং সীমিত পরিসরে খাদ্যসামগ্রী ও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থাও করছে সেনাবাহিনী।

সিলেট সেনানিবাসের জিওসি মেজর জেনারেল হামিদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সিলেটের ভয়াবহ বন্যাকবলিত ৩ উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ৫ উপজেলায় সেনাবাহিনী বন্যার্তদের উদ্ধারসহ পাঁচটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সিলেটের উপজেলাগুলোর মধ্যে সদর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার সদর, দিরাই, ছাতক, দোয়ারাবাজার ও জামালগঞ্জে কাজ করছে সেনাবাহিনী।

তিনি জানান, সিলেট কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি উঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকটি খাদ্য গুদাম হুমকিতে রয়েছে। এগুলো রক্ষায়ও সেনা সদস্যরা কাজ করছেন। সেনাবাহিনী নিজস্ব নৌকা দিয়ে পানিবন্দি মানুষদের উদ্ধার করছে। ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে আরও ‘রেসকিউ বোট’ আনা হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয়দের নৌকাগুলোও উদ্ধার কাজে ব্যবহার হচ্ছে। বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ও তাদের কাজ করতে পারাকে সেনাবাহিনী গৌরবের মনে করে।

সিলেট নগরীর সুরমা নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা, সিলেট জেলার সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার সবগুলো উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ পর্যায়ে।

শুক্রবারও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় এবং ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের তোড়ে পানি বাড়ছে হু হু করে। সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারাসহ সবগুলো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সুনামগঞ্জের সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এ ছাড়া সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট-গোয়াইনঘাট, সিলেট-কানাইঘাট, সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কও পানির নিচে চলে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রে পানি ওঠায় নামগঞ্জ জেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। একইসঙ্গে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

সিলেটের কুমারগাঁও গ্রিড স্টেশনেও পানি উঠেছে। আর অল্প কিছু পানি বাড়লেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে সিলেট নগরীরসহ পুরো সিলেট জেলা।

তবে কুমারগাঁও গ্রিড স্টেশন সচল রাখতে সেনাবাহিনী, ফায়ারসার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা বস্তায় বালু ভরে চারিদিকে উঁচু বাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করছে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এই বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এদিকে সিলেট নগরীসহ দুই জেলার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে বন্যার্ত মানুষদের ভিড় বেড়েছে। কোথায় কোথায় আবার আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা সংকট রয়েছে। এ ছাড়া দুই জেলার বেশিরভাগ স্থানে বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।

সুরমা নদীর পানি উপচে সিলেট নগরের বেশিরভাগ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নগরে নালা-নর্দমা আর বন্যার দুর্গন্ধযুক্ত পানির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও মানুষ।

সুনামগঞ্জ জেলার পৌরশহর, দিরাই, শাল্লা, ছাতক, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর, মধ্যনগরসহ সবগুলো উপজেলার নতুন নুতন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুনামগঞ্জে বন্ধ আছে সরকারি-বেসরকারি অফিসসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এর আগে গত ১৫ মে থেকে সিলেট নগর ও সিলেটের ১৩টি উপজেলায় টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা হয়েছিল। এতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে জানায় জেলা প্রশাসন।

রংপুর ডেইলী রংপুরের সবচেয়ে আপডেট সংবাদ দেশ ও আন্তজার্তিক নিউজ প্রকাশে বাধ্য থাকিবে। রংপুরের সব রকমের নিউজ পেতে রংপুর ডেইলী ভিজিট করুন