এডিপি

দিনে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচের চাপ

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই করোনার প্রকোপ কমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে হাঁটতে শুরু করে। এতে সরকার উন্নয়ন প্রকল্পে খরচ বাড়িয়ে দেয়। তবু সারা বছর উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ যেন আগের মতোই কচ্ছপগতিতে হেঁটেছে। ফলে অতীতের মতো এই অর্থবছরেরও শেষ মাস জুনে এসে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা খরচের হিড়িক পড়েছে। কারণ, সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) পুরো বাস্তবায়ন করতে হলে এই মাসে মোট ৭৪ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা খরচ করতে হবে; অর্থাৎ প্রতিদিন ২ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা ব্যয়ের চাপ রয়েছে প্রকল্প কর্মকর্তাদের ওপর। এ জন্য তাঁদের টি-টোয়েন্টি ব্যাটসম্যানের মতো মারকুটে মনোভাবে ব্যাট চালাতে হচ্ছে।

 

বুধবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) সব মিলিয়ে এডিপির ৬৫ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। এই সময়ে খরচ হয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৮৭ কোটি টাকা। তবে তা গত তিন বছর, অর্থাৎ কোভিডকালীন সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত দুই বছরে একই সময়ে ৫৮ শতাংশের মতো এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছিল।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার হলো ২ লাখ ১৭ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। মূল এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। ঠিকমতো প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় এডিপি কাটছাঁট করা হয়। কাটছাঁটের সময় ধরে নেওয়া হয়েছিল, সংশোধিত এডিপির পুরোটাই বাস্তবায়িত হবে। কিন্তু সংশোধিত এডিপি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হলে চলতি জুন মাসে গড়ে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ করতে হবে।

আইএমইডি সূত্রে জানা গেছে, তারা শুধু কত টাকা খরচ হলো সেই হিসাব ধরেই এডিপি বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরে। বাস্তবে অনেক সময় প্রকল্পের কাজ খরচের তুলনায় বেশি হয়। কিন্তু ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয় না বলেই খরচের পুরো হিসাব উঠে আসে না। এদিকে বছরের শেষ দিকে এসে ঠিকাদারেরা বিল পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করে কাজ শেষ করেন। তাই মে-জুন মাসে বৃষ্টির সময়ে রাস্তাঘাট মেরামত করতে দেখা যায়। এতে অবধারিতভাবেই কাজের মান ঠিক থাকে না।

৯ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ৫০% টাকাও খরচ করেনি
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পাঁচটি প্রকল্পে এবারের উন্নয়ন বাজেটে ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) তারা মাত্র ২০ কোটি টাকা খরচ করতে পেরেছে। অর্থ বিভাগের প্রকল্প বাস্তবায়নের হার মাত্র ৫।

শুধু অর্থ বিভাগই নয়, এমন আরও আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ আছে, যারা ১১ মাসেও বরাদ্দের অর্ধেক অর্থ খরচ করতে পারেনি। এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ হচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, সরকারি কর্ম কমিশন এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শুধু খারাপই নয়, ভালো করেছে, এমন নজিরও আছে। যেমন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একটি প্রকল্পে ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। পুরোটাই খরচ হয়ে গেছে। এ ছাড়া আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগ ৯৮ শতাংশ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ ৯২ শতাংশ এবং শিল্প মন্ত্রণালয় ৯০ শতাংশ টাকা খরচ করেছে।

রংপুর ডেইলী রংপুরের সবচেয়ে আপডেট সংবাদ দেশ ও আন্তজার্তিক নিউজ প্রকাশে বাধ্য থাকিবে। রংপুরের সব রকমের নিউজ পেতে রংপুর ডেইলী ভিজিট করুন