ইভ্যালির রাসেল ও তাঁর স্ত্রী শামীমার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ রাসেল এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন নারায়ণগঞ্জের একটি আদালত। চেক প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গতকাল বুধবার নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (খ-অঞ্চল) ইমরান মোল্লার আদালত এ পরোয়ানা জারি করেন।

নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর বিরুদ্ধে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮/১৪০ ধারায় মামলা করা হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার রামারবাগ এলাকার আজাদ রিফাত ফাইবার্স প্রা. লিমিটেডের পরিচালক মাহমুদুল ইসলাম রিফাতের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) নুরুন্নবী বাদী হয়ে চেক প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলাটি করেন। ওই মামলায় আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের জানুয়ারি ও এপ্রিল মাসে আসামিদের প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি ডটকম লিমিটেডের পক্ষ থেকে ৬০ শতাংশ ছাড়ে মোটরসাইকেল বিক্রির অফার প্রদান করে। ওই বিজ্ঞাপন দেখে বাদী ওই ই-কমার্সের অনলাইনে ২০২১ সালের ৪ জুলাই ১২ লাখ টাকা এবং ২৭ অক্টোবর ৪৩ লাখ ২১ হাজার টাকায় মোট ১৬টি মোটরসাইকেল ক্রয়ের অর্ডার করেন। ওই টাকা মোবাইল ব্যাংকিং সিস্টেম নগদ ও বিকাশ এবং একটি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করেন বাদী। বাদীকে মোটরসাইকেল অর্ডারের ৭ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে সরবরাহ করার কথা ছিল ওই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের। তা না হলে মোটরসাইকেলের মূল্য বাবদ ৭১ লাখ ৭২ হাজার টাকা বাদীকে প্রদান করো হবে বলে প্রতিশ্রুতি ছিল।

বাদী ৫৫ লাখ ২১ হাজার টাকায় মোট ১৬টি মোটরসাইকেল ক্রয়ের অর্ডার করেন। মোটরসাইকেল অর্ডারের ৭ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে সরবরাহ করার কথা ছিল ওই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের।

আসামিরা নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও মোটরসাইকেলগুলো সরবরাহ করতে না পারায় বাদী ইভ্যালির হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করে অর্থ ফেরতের অনুরোধ করেন। তখন প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত অর্থ ফেরতের আশ্বাস দেয়। অর্থ ফেরত না পেয়ে বাদী পুনরায় যোগাযোগ করলে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ তাঁর নামে ছয়টি চেক ইস্যু করেন। মিডল্যান্ড ব্যাংকের যেকোনো শাখা থেকে ইস্যু করা চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন করা যাবে বলে জানিয়েছিল ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ইস্যু করা চেকগুলো জমা দিতে গিয়ে দেখা যায়, সেগুলো ব্লক করা। বিষয়টি জানানোর জন্য বাদী ইভ্যালি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হন। তখন প্রতিষ্ঠানটির হটলাইন নম্বর ও ওয়েবসাইট বন্ধ ছিল। অবশেষে গত বছরের ১৪ নভেম্বর ইভ্যালি কর্তৃপক্ষকে ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠান বাদী। এরপর চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (খ-অঞ্চল) মামলা করেন। গতকাল মামলার শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

বাদী অভিযোগ করেন, বিবাদীর বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎসহ প্রতারণার অভিযোগে দেশের প্রচলিত আইনে বিভিন্ন জায়গায় মামলা হয়েছে। মূলত বিবাদীরা বাদীর পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকে পর্যাপ্ত টাকা জমা না রেখে এবং হিসাব নম্বর ব্লক করে ছয়টি চেক প্রদান করে।

প্রতারণার মামলায় ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান তাঁর স্ত্রী শামীমা নাসরিন বর্তমানে কারাগারে আটক।

রংপুর ডেইলী রংপুরের সবচেয়ে আপডেট সংবাদ দেশ ও আন্তজার্তিক নিউজ প্রকাশে বাধ্য থাকিবে। রংপুরের সব রকমের নিউজ পেতে রংপুর ডেইলী ভিজিট করুন